প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সংস্কৃত বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে গলা চেপে হত্যার চেষ্টা, মারধর ও ইট দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে একই ছাত্রাবাসের এক বাসিন্দার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া তাঁকে কক্ষে আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চন্দ্রিমা থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজশাহী মহানগরের চন্দ্রিমা থানাধীন মেহেরচন্ডী পূর্বপাড়ার ‘শুভ ভিলা’ নামের একটি ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম লেবানন বম। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ছাত্রাবাসটির নিচতলায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকেন। অভিযুক্ত হাসানুজ্জামান লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের বাসিন্দা। তিনিও ওই ছাত্রাবাসের ভাড়াটিয়া।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ছাত্রাবাসের যৌথ বাথরুম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে লেবানন বমের সঙ্গে হাসানুজ্জামানের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাসানুজ্জামান লেবাননের কক্ষে গিয়ে তাঁকে গালিগালাজ ও কিল-ঘুষি মারেন। লেবানন তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করলে হাসানুজ্জামান তাঁর গলা চেপে ধরেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, গলা থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার পর লেবাননকে ইট দিয়ে পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন হাসানুজ্জামান। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও ফোলা তৈরি হয়। এ সময় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
লেবাননের অভিযোগ, তিনি চিৎকার করে সাহায্য চাইলে হাসানুজ্জামান কক্ষ থেকে বের হয়ে দরজায় হ্যাজবল লাগিয়ে তাঁকে ভেতরে আটকে রাখেন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে তাঁকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওসল চাকমা বলেন, বাথরুম অপরিষ্কার থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রথমে হাসানুজ্জামানের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তিনি গালিগালাজ করে নিজের কক্ষে চলে যান। কিছুক্ষণ পর লেবানন বমের সঙ্গে তাঁর হাতাহাতি শুরু হলে তাঁরা দুজনকে আলাদা করার চেষ্টা করেন। এ সময় হাসানুজ্জামান লেবাননকে মারধর ও ইট দিয়ে আঘাত করেন বলে তিনি জানান।
ওসল চাকমা আরও বলেন, লেবাননকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি অন্যদের জানাতে বের হওয়ার সময় তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পাশের মেসের এক ব্যক্তির সহযোগিতায় তিনি সেখান থেকে বের হয়ে অন্যদের বিষয়টি জানান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী নন, তিনি একজন বহিরাগত। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব নিয়মে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
প্রক্টর আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বর্তমানে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
