বুধবার ১৯, আগস্ট ২০২৬

বুধবার ১৯, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে অ্যাক্রেডিটেশনের বিকল্প নেই: যবিপ্রবি উপাচার্য

ইয়ামিন আহমেদ,যবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

যবিপ্রবিতে অ্যাক্রেডিটেশন নিয়ে মতবিনিময় ও প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

বাংলাদেশের শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নত করতে অ্যাক্রেডিটেশনের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইয়ারুল কবীর।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) যবিপ্রবিতে আয়োজিত ‘Quality Assurance and Accreditation: Knowledge Sharing and Panel Discussion’ শীর্ষক মতবিনিময় ও প্যানেল আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দুপুর দুইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে প্রশাসনিক ভবনের ৫ম তলার সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, ‘অ্যাক্রেডিটেশন থাকলে দেশের শিক্ষার্থীরা যেমন বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য গমণে যথাযথ মূল্যায়ন পাবে, ঠিক তেমনি অ্যাক্রেডিটেশন থাকা বিভাগগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। এটি যেমন একটি দেশের শিক্ষা পদ্ধতির জন্য কল্যাণময় তেমনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নতকরণে ও র‌্যাংকিং অর্জনের জন্য আবশ্যক। তিনি এই বিষয়ে সকলকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করার আহবান জানান।’

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের পূর্ণকালীন সদস্য অধ্যাপক ড. মো. শাহ এমরান। তিনি বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের কাজ ও ভূমিকা তুলে ধরেন।

অধ্যাপক ড. মো. শাহ এমরান বলেন, ‘বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (Bangladesh Accreditation Council) হলো বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান নিশ্চিতকরণ ও প্রত্যয়নকারী একটি স্বায়ত্তশাসিত সরকারি সংস্থা। কাউন্সিলের প্রধান কাজ ও দায়িত্ব সমূহ হলো, সুনির্দিষ্ট বিষয়ের মান যাচাইয়ের জন্য পৃথক ডিসিপ্লিন ভিত্তিক এ্যাক্রেডিটেশন কমিটি গঠন করা ও বাংলাদেশের সাথে একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান যাচাই, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে (HEI) এবং তাদের বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রাম বা পাঠ্যক্রমের মান যাচাই করে এ্যাক্রেডিটেশন বা প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা। সর্বোপরি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করা এবং আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা। তিনি আরো বলেন, আপনাদের সহযোগিতার ব্যাপারে আমরা সর্বদা তৎপর। আপনাদের কাজ ও সেবা প্রদানের সুবিধার্থে আমাদের দরজা আপনাদের জন্য সব সময় খোলা আছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান। তিনি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে যে মানদণ্ড রয়েছে, সে বিষয়ে অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্যানেল আলোচনা পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ বিভাগের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে বিশ্বমানে উন্নীত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় আইকিউএসি অতিরিক্ত পরিচালক (কিউএ) ড. কে. এম. আনিস-উল-হকসহ আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক (ইটিএল) ড. ফারহানা ইয়াসমিন।

Link copied!