প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একাডেমিক কাউন্সিল সভাকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক, গবেষণা ও প্রশাসনিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জাকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আবু উবায়দা উসামা স্বাক্ষরিত এক স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) বরাবর জমা দেওয়া হয়। এতে দাবিগুলো একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা ও অনুমোদনের মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
জাকসুর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে - মাস্টার্স পর্যায়ের থিসিস শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা বৃত্তি চালু, আন্তর্জাতিক জার্নাল ও অনলাইন গবেষণা প্ল্যাটফর্মে প্রাতিষ্ঠানিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত, সেশনজট নিরসনে কার্যকর একাডেমিক ক্যালেন্ডার বাস্তবায়ন ও দ্রুত ফল প্রকাশ, শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইলের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি।
এ ছাড়া ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে গবেষণাভিত্তিক সার্টিফিকেট কোর্স চালু ও সেখানে শিক্ষার্থীদের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ, বিভিন্ন বিভাগ ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের জনবল সংকট নিরসন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রুতিলেখক অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ, মানোন্নয়ন পরীক্ষার জিপিএ শর্ত ৩.০০ থেকে বাড়িয়ে ৩.২৫ পর্যন্ত বিবেচনা, চূড়ান্ত পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু এবং মূল্যায়নে অনিয়মের তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
দাবির অন্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে অনার্স চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিশেষ পরিস্থিতিতে বিশেষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ, শিক্ষা ও পাঠদানের মানোন্নয়নে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু এবং চূড়ান্ত পরীক্ষার সময়সূচি শিক্ষার্থীবান্ধব ও বাস্তবসম্মতভাবে পুনর্বিন্যাস।
স্মারকলিপিতে জাকসু বলেছে, এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত হবে।
এ ব্যাপারে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামছুল আলম বলেন, “জাকসুর উত্থাপিত দাবিগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। যেসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার জন্য কল্যাণকর, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া যেসব দাবি নীতিগত সিদ্ধান্ত বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সেগুলো প্রয়োজনীয় কমিটি গঠন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।”
