প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি, রাকসু ভবনে হামলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। বুধবার রাত সাড়ে ৭ টায় রাকসু ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাকসু নেতারা সাম্প্রতিক ঘটনাবলিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশের জন্য ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাকসুর ভিপি। এতে বলা হয়, গত ২৬ জুলাই সংস্কৃত বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থী রাকসুর কাছে অভিযোগ করেন যে, একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুহসিন তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তিনি চাকু দেখিয়ে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন এবং নিজের কাছে পিস্তল থাকার কথাও বলেন।
রাকসুর দাবি, অভিযোগের পর ওই রাতেই প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষকে ডাকা হয়। এ সময় আনাস নামে এক ব্যক্তি অভিযুক্তের অভিভাবক পরিচয়ে উপস্থিত হয়ে প্রক্টরের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তদন্ত কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করেন। পরে প্রক্টর তাকে কক্ষ থেকে বের করে দেন। এ ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর আনাস সাংবাদিকদের মামলা করার হুমকি দেন বলেও দাবি করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ২৭ জুলাই পুনরায় বৈঠকে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে আনাস আবারও উপস্থিত হয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন এবং প্রক্টরিয়াল বডি ও রাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। রাকসুর দাবি, তার মোবাইল ফোন পর্যালোচনায় ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় এবং তিনি নিজেও অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেন।
রাকসুর অভিযোগ, পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও প্রশাসন আনাসকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে না দিয়ে ছেড়ে দেয়। পরে আনাস, ছাত্রদল নেতা শাফিন ও তাদের সহযোগীরা রাকসু ভবনে হামলা চালান। এতে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার আহত হন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুল সাকিব গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত হন।
ঘটনার পর আনাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির রিডিং রুমে আশ্রয় নেন বলে দাবি করে রাকসু। প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় রাকসু, হল সংসদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ সেখানে অবস্থান নেন। দীর্ঘ সময় প্রশাসনের নীরবতার কারণে পরবর্তীতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রাকসু ছয় দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— নারী শিক্ষার্থীকে হুমকির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিশ্ববিদ্যালয়ীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, রাকসু ভবনে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার তদন্ত, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
রাকসু জানায়, “ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, ভয়ভীতি, নারী শিক্ষার্থীর প্রতি সহিংসতা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার মেনে নেওয়া হবে না। আইনের শাসন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”
