মঙ্গলবার ২৮, জুলাই ২০২৬

মঙ্গলবার ২৮, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

নজরুলের একেকটি শব্দ যেন একেকটি যুদ্ধ ঘোষণা: আবদুল হাই শিকদার

জাককানইবি থেকে রবিউল ইসলাম শাকিল

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:০৯ পিএম

কবি, নজরুল গবেষক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

নজরুলের একেকটি শব্দ যেন একেকটি যুদ্ধ ঘোষণা। অন্যায় ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় কবির শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরে মন্তব্য করেছেন কবি, নজরুল গবেষক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) ‘নজরুলবর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত একক বক্তৃতা ও গবেষণা সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বক্তব্যের শুরুতে জুলাই বিপ্লবের অমর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান আবদুল হাই শিকদার। তিনি বলেন, দুধের সঙ্গে সাদা আর দেহের সঙ্গে রুহের সম্পর্ক যেমন অবিচ্ছেদ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে নজরুলের আত্মিক সম্পর্কও তেমনই।

কাজী নজরুল ইসলামের জীবন নিয়ে প্রচলিত বিভিন্ন ভুল ধারণার বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় কবিকে নিয়ে অনেক গবেষণা হলেও তাঁর জীবন ঘিরে কিছু ভ্রান্ত গল্প তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “জাতীয় কবিকে নিয়ে অনেক গবেষণা হলেও তাঁর জীবন ঘিরে কিছু ভ্রান্ত গল্প তৈরি করা হয়েছে। নজরুল কখনোই রুটির দোকানে বেলনা দিয়ে রুটি বানাননি; প্রকৃতপক্ষে তিনি কাজ করতেন একটি বেকারিতে, পাউরুটি তৈরির কাজ।”

নজরুলের বহুমাত্রিক প্রতিভার কথা তুলে ধরে আবদুল হাই শিকদার বলেন, গান, কবিতা কিংবা খেলাধুলা, সব ক্ষেত্রেই নজরুলের উপস্থিতি ছিল অনন্য। ত্রিশালের মাটিতে এই মহান প্রতিভার আগমনের পেছনে দারোগা রফিজউল্লাহর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “ত্রিশালের মাটিতে এই মহান প্রতিভাকে নিয়ে এসেছিলেন দারোগা রফিজউল্লাহ। নজরুলের এই আগমনী ইতিহাসকে অম্লান রাখতে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রফিজউল্লাহ দারোগার নামে একটি স্থাপনা বা ভবনের নামকরণ করা উচিত।”

জাতীয় কবিকে গণমুখী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ উল্লেখ করে আবদুল হাই শিকদার বলেন, নজরুলের চিন্তা ও দর্শনে ছিল অসাম্প্রদায়িকতা, মানবিকতা ও প্রগতিশীলতার প্রকাশ। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, “নজরুল কাউকে বড় করতে গিয়ে অন্যকে ছোট করার মানসিকতা কখনো রাখেননি। তাঁর অনমনীয় ও অবিসংবাদিত অবস্থানের কারণেই তিনি আমাদের জাতীয় কবি ও চিরন্তন আলোকবর্তিকা। একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়তে হলে সর্বস্তরে নজরুল চর্চার ব্যাপক বিস্তার ঘটাতে হবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ (রাশেদ সুখন) এবং আইন অনুষদের ডিন মুহাম্মদ ইরফান আজিজ।

ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল আনামের স্বাগত বক্তব্য ও সঞ্চালনায় আয়োজিত সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে ২০২৪ ২০২৫ অর্থবছরের ৩৮টি শিক্ষার্থী গবেষণা প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়।

এসব গবেষণা প্রকল্প মূল্যায়ন করেন প্রখ্যাত নজরুল গবেষক প্রফেসর ড. রশিদুন নবী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব উল মাওলা (মাওলা প্রিন্স)।

Link copied!