মোঃ শোয়েব বিন জামান। রুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
মঙ্গলবার ২৮, জুলাই ২০২৬ -- : -- --
ছবি।ক্যাম্পাস রিপোর্ট
চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশন (সিইএসএ) ও সেবামূলক সংগঠন ‘সোপান’-এর যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ছাত্রকল্যাণ দপ্তর, বিভিন্ন ক্লাব ও জেলা সমিতির সহযোগিতায় পরিচালিত তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। পরে সেই অর্থ চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত ১২০টি পরিবারের মধ্যে নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।
দুই দিনব্যাপী এ মানবিক কার্যক্রমে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেন স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রথম দিনে উপজেলার ৭ নম্বর সরল ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের ৩০টি পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দিনে কাথারিয়া ও বাহারছড়া ইউনিয়নের কোর্টপাড়া, বাগমারা, চাপাছড়ি ও ইলশাসহ বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে নগদ সহায়তা বিতরণ করা হয়।
স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, বন্যায় বহু পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার বর্তমানে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা অন্যান্য অনিরাপদ স্থানে বসবাস করছে। এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি নগদ সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
মানবিক এ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া রুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাকলাইন তানজিব সৌরভ বলেন, “মাঠপর্যায়ে গিয়ে বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ খুব কাছ থেকে দেখেছি। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। রুয়েটের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ছাত্রকল্যাণ দপ্তর ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের বিশ্বাস, এই সহায়তা তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করবে।”
চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশন (সিইএসএ), রুয়েটের সভাপতি মো. তাসনিম নাদভী বলেন, “এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার জন্য রুয়েটের উপাচার্য, ছাত্রকল্যাণ দপ্তর, শিক্ষকবৃন্দ, বিভিন্ন ক্লাব ও জেলা সমিতিসহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতাকারী সবার প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় বন্যাদুর্গত মানুষের হাতে জরুরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, দুর্গত মানুষ যেন দ্রুত এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেন।”
আয়োজকরা জানান, কেবল ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে প্রয়োজন যাচাই করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ দুর্যোগকালে সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী চেতনার একটি ইতিবাচক উদাহরণ। ভবিষ্যতেও জাতীয় দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে রুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একইভাবে মানুষের পাশে থাকবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।