প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ তিন দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কুরআন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন থেকে সাজিদ হত্যার বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হল বা স্থাপনার নামকরণ এবং পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দীন মিঝি, অধ্যাপক ড. খান মোহাম্মদ ইলিয়াস, নিহত সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ, বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, তালাবায়ে আরাবিয়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বক্তারা বলেন, ঘটনার এক বছর পার হলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি এবং তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাজিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। একই সঙ্গে সাজিদের স্মৃতি সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্থাপনার নামকরণের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, "এক বছরেও হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি, কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। নতুন প্রশাসনও পরিবারের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ করেনি। প্রকৃত বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।"
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকার অভাব স্পষ্ট। দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার, সাজিদের নামে স্থাপনার নামকরণ এবং প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ বাস্তবায়ন করতে হবে।"
নিহত শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ বলেন, "এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার হয়নি। আমার সন্তানকে আর ফিরে পাব না, কিন্তু ন্যায়বিচার তো পাওয়ার অধিকার আছে। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিক্ষার্থী এভাবে প্রাণ না হারায়, সে জন্য প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।"
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুর থেকে সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ৩ আগস্ট প্রকাশিত ভিসেরা প্রতিবেদনে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর থেকে হত্যার বিচার ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
