প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) গণিত বিভাগের একদল শিক্ষার্থীর হামলায় ক্যাম্পাস সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন নভোথিয়েটারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় গুরুতর আহত হন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও এশিয়া পোস্টের ক্যাম্পাস সাংবাদিক আবু উবাইদা, আব্দুল কাদের জীবনসহ একই বিভাগের আটজন শিক্ষার্থী। এছাড়া বাংলা, লোকপ্রশাসন, সিএসই, হিসাববিজ্ঞান ও ইংরেজি বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের ফেসবুক পেজে গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরফান সিফাতের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি ভিডিও প্রকাশকে কেন্দ্র করে কথা বলার কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু উবাইদা ও সাংবাদিক আব্দুল কাদের জীবনকে নভোথিয়েটারের সামনে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছালে সিফাতের নেতৃত্বে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
খবর পেয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের উদ্ধার করতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকপ্রশাসন, কোস্টাল অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাধা দিতে গেলে তারাও হামলার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, লাঠি, রড, পাইপ ও ইটপাটকেল নিয়ে ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী এ হামলায় অংশ নেন।
জানা গেছে, হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীও আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্তসহ একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
হামলার সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আরও কয়েকজন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হন। সংবাদ সংগ্রহের সময় 'আজকালের কণ্ঠ'-এর সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং 'দৈনিক আমার দেশ'-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাসুদ রানার ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া তাদের মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে হামলার নেতৃত্বে গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আরফান সিফাত এবং একই বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মো. হাসানের নাম উঠে এসেছে। এছাড়া একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ইমতি, রিয়াজ ও নাইমসহ আরও ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অমিও মন্ডল, রিপন মন্ডল, নাহিদ ইসলাম ও আব্দুল কাদের ইমন, লোকপ্রশাসন বিভাগের তানজিল, সিএসই বিভাগের সিফাত, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মারুফ এবং ইংরেজি বিভাগের আহনাফ।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক আব্দুল কাদের জীবন বলেন, "২০-৩০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে আমার ওপর অতর্কিত হামলা করেছে। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আরফান সিফাত ও মো. হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. বিজয় কৃষ্ণ সাহা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা ও সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং আহত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ জানান, উভয় পক্ষের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ আহ্বান করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
