সোমবার ২০, জুলাই ২০২৬

সোমবার ২০, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

নতুন ভবনের প্রস্তুতি, তবু চিকিৎসক ও সেবা সংকটে ঈদগাঁও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

কক্সবাজারের ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, জনবল, আবাসন ও ডায়াগনস্টিক সুবিধার সংকটে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী এলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে কেন্দ্রটির পরিত্যক্ত তিনটি ভবন অপসারণ করে ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে একটি মাত্র দুইতলা ভবনে গাদাগাদি করে ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, জালালাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং সদ্য অনুমোদিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রটিতে আটজন মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন। বেতন-ভাতার জটিলতা, আবাসন সংকট ও প্রতিকূল কর্মপরিবেশের কারণে অনেক চিকিৎসক অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন। ফলে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

এছাড়া হাসপাতালটিতে কোনো ডায়াগনস্টিক সুবিধা না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও দুর্বল। ১০ জন আনসার সদস্য থাকার কথা থাকলেও আবাসনের অভাবে মাত্র একজন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। হাসপাতাল চত্বরে জমে থাকা বর্জ্য পরিবেশকেও অস্বাস্থ্যকর করে তুলেছে।

ঈদগাঁও উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রোখসানা আফাজ বলেন, সীমিত জনবল ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েই চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাদ্দে ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে নির্মাণকাজ শুরু হবে। নতুন ভবন চালু হলে বহির্বিভাগ, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা এবং চিকিৎসক নিয়োগের সুযোগ আরও বাড়বে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের কাজ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে। ভবনটি চালু হলে ঈদগাঁও অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Link copied!