জাককানইবি থেকে রবিউল ইসলাম শাকিল
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৫০ পিএম
বৃহস্পতিবার ১৬, জুলাই ২০২৬ -- : -- --
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরিয়েন্টেশনে উপাচার্যের বক্তব্যকালীন সময়। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়কে (জাককানইবি) স্বল্প সময়ের মধ্যে স্মার্ট বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত টিএসসি ভবনের অডিটরিয়ামে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপাচার্য। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও ওরিয়েন্টেশন বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী ও উদ্বোধক সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। উদ্ভাবন হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের মানদণ্ড। তাই গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান উদ্ভাবন করতে হবে। বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ, অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলো এখনো চালু করা হয় নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি স্মার্ট বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার পথেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা ভর্তি যুদ্ধে প্রতিযোগিতা করে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছ। তবে এখানেই প্রতিযোগিতা শেষ হয় নি, বরং এখান থেকেই তোমাদের প্রতিযোগিতা শুরু হলো। তোমাদের যেতে হবে বহু দূর, তোমাদের পথ মসৃণ নয়, পিচ্ছিল। সমস্যা থাকবেই সেই সমস্যাগুলো মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে পারলেই তোমরা সফলকাম হতে পারবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও ওরিয়েন্টেশন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, 'জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াসহ যাঁরা অবদান রেখেছেন তাঁদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠন, পাঠন ও গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। এখানে বড় বড় ভবন যেমন আছে, তেমনি সবুজের সমারোহও আছে।’
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা সবাই মেধাবী, তবে মেধার সাথে অধ্যাবসায় যোগ করেই তোমরা ভর্তির সুযোগ পেয়েছ। তোমরা যে যেখান থেকেই আসো না কেন, সবাই সমান। তোমাদের মধ্যে উঁচু-নিচু কোন ভেদাভেদ নাই, ঠিক কবি নজরুলের আদর্শে সবাই মানুষ। তবে তোমাদের শুধু পড়াশোনা করলেই হবে না, এক্সট্রা কারিকুলারেও দক্ষ হতে হবে। নিজেকে আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে, সার্বিকভাবে উপযুক্ত মানুষ হয়ে বের হতে হবে।’
আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের ব্যবস্থা করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষক স্বল্পতাসহ যাবতীয় সমস্যা সমাধানে ইউজিসি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধানের ব্যস্থা করবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহ ৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘ত্রিশালে নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করেছিলাম ত্রিশালে কবি নজরুলের নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে। তিনি ২০০৫ সালের ১ মার্চ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ২০০৬ সালের ২৫ মে শুভ উদ্বোধন করেন। এত দ্রুত সময়ে আর কোন বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে বলে আমার জানা নাই। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসকল ঠিকাদার তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ করতে ব্যর্থ হবে তাদের তালিকা করে পরবর্তীতে কাজ না দেওয়ার আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর একবার সমাবর্তন হওয়ায় তিনি আগামীতে প্রতি বছর সমাবর্তন করার আহ্বান জানান।’
অনুষ্ঠানে আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ এবং প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান।
স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও ওরিয়েন্টেশন উপকমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা) ড. মো. আশরাফুল আলম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষে লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের শওকত ইকবাল এবং ইইই বিভাগের মৃত্তিকা দত্ত প্রীতি অনুভূতি ব্যক্ত করেন। চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব এবং ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মামুন সরকারও বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের রজনীগন্ধার স্টিক দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে তাদের একটি করে ফোল্ডার, নোটবুক, কলম এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নবনির্মিত টিএসসি ভবনের অডিটরিয়ামে নবীনদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হলো।