প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
বিশ্ব ফুটবলে কিলিয়ান এমবাপ্পে এখন রেকর্ড ভাঙা-গড়ার আরেক নাম। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামলেই ফ্রান্সের জার্সিতে ১০০তম ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ড।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন এমবাপ্পে। সেই দুই গোল তাঁকে ফ্রান্সের ইতিহাসে এবং বিশ্বকাপে ফরাসি ফুটবলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় এবার যুক্ত হতে পারে আরও একটি বড় রেকর্ড।
সেনেগালের বিপক্ষে দুই গোলের পর বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪। ফলে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের সর্বকালের রেকর্ড থেকে তিনি মাত্র দুই গোল দূরে ছিলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে লিওনেল মেসি সেই সমীকরণ বদলে দেন। ১৬ গোল নিয়ে ক্লোসার পাশে জায়গা করে নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ফলে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াই এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সূচির কারণে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে মেসির আর্জেন্টিনা। যদি সেই ম্যাচে মেসি গোল করতে না পারেন এবং পরে ইরাকের বিপক্ষে এমবাপ্পে হ্যাটট্রিক করেন, তাহলে মাত্র ২৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের একক সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে উঠবেন তিনি।
তবে ফরাসি শিবির আপাতত ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলগত সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ইরাককে সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে নারাজ ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা।
তিনি বলেন, ‘ইরাক বেশ ভালো দল। লোকে যতটা সহজ ভাবছে, কাজটা অত সহজ হবে না। তারা যোগ্যতা অর্জন করেই এখানে এসেছে, প্লে-অফে বলিভিয়াকে হারিয়েছে, স্পেনের সঙ্গে ড্র করেছে। আমরা একটা কঠিন লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
বিশ্বকাপে ইরাকের ইতিহাস খুব বেশি সমৃদ্ধ নয়। ১৯৮৬ সালে একমাত্র অংশগ্রহণে তিন ম্যাচেই হেরেছিল দলটি। তবে এবার দীর্ঘ ও কঠিন বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল আসরে জায়গা করে নিয়েছে তারা। মোট ২১টি বাছাই ম্যাচ খেলার পর আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে বলিভিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ইরাক। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রও করেছে দলটি।
ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে মনে করেন, ম্যাচটি হবে শারীরিক শক্তি ও মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষা।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ম্যাচটা খুব তীব্র হবে। তারা বিশ্বকাপে টিকে থাকার জন্য খেলবে, তাই শারীরিক ফুটবল খেলবে। আমাদের তৈরি থাকতে হবে।’
এদিকে প্রথম ম্যাচের পর যুক্তরাষ্ট্রের মাঠের মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফরাসি দল। নিউ জার্সির মাঠ নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়ে সালিবা বলেন,
‘সেদিন মাঠের মান দেখে আমি কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল কৃত্রিম ও শক্ত পিচ। তবে আমাদের খেলতেই হতো। ঘাসগুলো মোটেও ভালো ছিল না। জানি, এটা দুই দলের জন্যই সমান, তবে মাঠটা ভালো ছিল না।’
ফিলাডেলফিয়ার মাঠে পরিস্থিতি ভালো হবে বলেই আশা করছেন তিনি।
ফ্রান্সের জন্য এই ম্যাচ নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করার সুযোগ, আর ইরাকের জন্য টিকে থাকার লড়াই। তবে সব আলো শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ছে দুই মহাতারকার ওপর—লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে কে এগিয়ে থাকবেন, সেটাই এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৌতূহল।
