শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

শনিবার ১৩, জুন ২০২৬ -- : -- --

বিশ্বকাপের মাঠে নয়, উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন সঞ্জয় দেব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

বিশ্বকাপের মাঠে নয়, উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন সঞ্জয় দেব

ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে এখনো জায়গা করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের ২০২৬ সংস্করণে সাংস্কৃতিক আয়োজনের মঞ্চে উঠে আসছে লাল-সবুজের নাম। মাঠের প্রতিযোগিতায় নয়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বাংলাদেশি-আমেরিকান সংগীতশিল্পী ও সংগীত প্রযোজক সঞ্জয় দেব।

কানাডার টরন্টোয় আয়োজিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের একাধিক তারকার সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেবেন তিনি। অনেকের কাছেই সঞ্জয়ের এই অংশগ্রহণ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এবারের বিশ্বকাপকে ঘিরে আলোচিত গান ‘সির সির’-এর কো-প্রডিউসার ও কো-রাইটার হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন আরেক বাংলাদেশি গিটারিস্ট, সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সংগীত প্রযোজক রাসেল আলী। ফলে এবারের বিশ্বকাপের আয়োজনে একাধিক বাংলাদেশির সম্পৃক্ততা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে ওঠার আগের রাতে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সঞ্জয় বলেন, ‘এমন মুহূর্ত জীবনে বারবার আসে না। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, পরিশ্রম ও স্বপ্নের পথ পেরিয়ে আমি এই অবস্থানে পৌঁছেছি। তাই অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনাও রয়েছে, যদিও সেটি আগেভাগে প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে সঞ্জয় দেবকে বাংলাদেশের পরিচয় বহনকারী পোশাকে দেখা গেছে। তাঁর ব্যবহৃত টি-শার্টে বাংলাদেশের পতাকার রঙ ও ‘বাংলাদেশ ১৯৭১’ লেখা ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি নিয়মিত বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন।

সঞ্জয় দেবের জীবনগল্পও সংগ্রাম আর স্বপ্নপূরণের এক অনন্য উদাহরণ। শ্রীমঙ্গলে জন্ম হলেও তাঁর শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছে চট্টগ্রামে। পরে অল্প বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। সিলিকন ভ্যালিতে অভিবাসী জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।

নিজের সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের অবদানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন সঞ্জয়। তাঁর মতে, পরিবারের ত্যাগ, কঠোর পরিশ্রম ও সংগ্রামই তাঁকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

সংগীতের প্রতি তাঁর ভালোবাসার শুরু পারিবারিক পরিবেশ থেকেই। মা মিতা দেব গান গাইতেন এবং ছোটবেলায় মায়ের গানের সঙ্গে তবলা বাজাতেন সঞ্জয়। সংগীতপ্রেমী নানির কাছ থেকেও তিনি পেয়েছেন অনুপ্রেরণা।

ভবিষ্যতে বাংলা গান ও বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরতে চান সঞ্জয় দেব। পাশাপাশি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনেও কাজ করার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

Link copied!