সোমবার ০৮, জুন ২০২৬

সোমবার ০৮, জুন ২০২৬ -- : -- --

বিশ্বমঞ্চে জায়গা পেল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের জিহাদের চলচ্চিত্র

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের জিহাদের 'দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট' সিনেমার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট কম্পিটিশন বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট’ (সাঁকোটা দুলছে)। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এটি।

আগামী ১২ থেকে ২১ জুন চীনের সাংহাই শহরে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও মর্যাদাপূর্ণ এই চলচ্চিত্র উৎসব। উৎসবের এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট কম্পিটিশন বিভাগে বাংলাদেশের একমাত্র চলচ্চিত্র হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট’।

চলচ্চিত্রটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ। এটি তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। প্রযোজনা করেছেন একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক। এটি তাঁর এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মনপাচিত্রেরও প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।

বাংলাদেশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মনপাচিত্র এবং জার্মানির মগডোর ফিল্মের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। বাংলাদেশ ও জার্মানির যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এ চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক নির্মাণযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন জার্মান প্রযোজক ক্রিস্টোফ থোকে। তিনি সহযোগী প্রযোজক হিসেবে পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র সমালোচক, প্রযোজক ও প্রোগ্রামার ডার্সি প্যাকুয়েট চলচ্চিত্রটির কনসাল্টিং প্রযোজক হিসেবে এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক ফজলে হাসান শিশির সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

সম্পূর্ণ সাদা-কালোতে নির্মিত চলচ্চিত্রটি মূলত গ্রামীণ বাংলাদেশের তিন নারীর জীবনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। এতে কুসংস্কার, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও সামাজিক নিপীড়নের বেড়াজাল থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখা নারীদের সংগ্রামের গল্প উঠে এসেছে। গ্রামীণ বাংলাদেশের বাস্তবতার আঙ্গিকে নারীর জীবন, বিশ্বাস, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নকে উপস্থাপন করা হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে।

এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ এই চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের প্রথম চলচ্চিত্র নির্বাচিত হওয়া প্রসঙ্গে পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ বলেন, “গ্রামীণ বাংলাদেশে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি, কীভাবে কুসংস্কার, রক্ষণশীলতা এবং সামাজিক বিধিনিষেধ নারীদের জীবনে প্রভাব ফেলে। এই চলচ্চিত্র সেই বাস্তবতা থেকেই জন্ম নিয়েছে। সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়া আমাদের পুরো টিমের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। পাশাপাশি চলচ্চিত্রে প্রতিফলিত মানুষদের জীবন ও অভিজ্ঞতার একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।”

চলচ্চিত্রটির বিষয়ে প্রযোজক মনোজ কুমার প্রামাণিক বলেন, “এই যাত্রা শুরু হয়েছিল খুব সীমিত অর্থ, অল্প অভিজ্ঞতা এবং একদল স্বপ্নবাজ তরুণ চলচ্চিত্রকর্মীদের নিয়ে। সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়া আমাদের বহু বছরের পরিশ্রম, ত্যাগ, বিশ্বাস এবং স্বাধীন চলচ্চিত্র চর্চার প্রতি অঙ্গীকারের স্বীকৃতি।”

Link copied!