প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা (আইপিএস ও জেনারেটর) অচল থাকায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় চিকিৎসাসেবা চালাতে হয়েছে। এতে হাসপাতালে ভর্তি রোগী, জরুরি বিভাগের সেবাপ্রার্থীরা এবং তাদের স্বজনরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন।
শনিবার (৬ জুন) রাত প্রায় ১০টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে ৫০ শয্যার হাসপাতালটি অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জরুরি বিভাগে মোমবাতি ও মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নেওয়া হয়।
মধ্যরাতে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেন। তার হস্তক্ষেপের পর রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ৭০-৮০ জন রোগী ভর্তি আছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতেও থাকতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি বাথরুমে পানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং তীব্র গরমের কারণে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সাগর সাহা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ভোল্টেজ সমস্যার কারণে ওয়ার্ডগুলোর আলো জ্বলছিল না। ফলে রোগীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে জরুরি বিভাগে মোমবাতির আলো ব্যবহার করতে হয়েছে।
হাসপাতালের বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অকার্যকারিতা নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, সমস্যাটি লোডশেডিংয়ের কারণে হয়েছে এবং হাসপাতালের আইপিএস ও জেনারেটর দুটিই নষ্ট রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে কি না-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি অফিস সময়ে যোগাযোগ করতে বলেন এবং পরে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এদিকে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন জানান, হাসপাতালের বিদ্যুৎ সমস্যার বিষয়টি তার জানা ছিল না। জেনারেটরের বর্তমান অবস্থাও তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
শেরপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের নিজস্ব বিদ্যুৎ লাইনের ত্রুটির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার পর দ্রুত মেরামত কার্যক্রম শুরু করা হয়।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সিভিল সার্জন ও পিডিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতালের নষ্ট জেনারেটর ও আইপিএস দ্রুত সচল করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
জেএস/
