প্রকাশিত: ০১ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, ইরানি জনগণের অধিকার সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে-এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তেহরান কোনো চুক্তিতে সম্মত হবে না।
তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে আরও কঠোর শর্তসংবলিত নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়ায় নতুন সংশোধনী যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে পূর্ণাঙ্গ নৌ-চলাচল পুনরুদ্ধারের বিষয়টি আরও বিলম্বিত হতে পারে।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর আগেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছিল। ওই হামলায় দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক প্রয়োজনে পরিচালিত হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা মিত্রদের অভিযোগ, তেহরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কাছে আরও কঠোর একটি নতুন কাঠামো পাঠিয়েছে। যদিও সেই প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্পের ভাষ্য, যেকোনো সমঝোতার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ থেকে দূরে রাখা এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিশ্চয়তা হলো, ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। তারা এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।’
তবে ট্রাম্পের এমন দাবির বিষয়ে আগেও সংশয় প্রকাশ করেছে তেহরান। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে এখনো দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় গালিবাফ বলেন, ‘ইরানি জনগণের অধিকার পুরোপুরি রক্ষিত হয়েছে-এ বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো চুক্তি অনুমোদন করব না।’
ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা ও মতবিনিময় চলছে। উভয় পক্ষই বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি এবং আলোচনার শেষ পর্যায়ে এসে সম্ভাব্য চুক্তি বাতিলও হয়ে যেতে পারে।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কার্যকর আলোচনা শুরুর আগে তারা বিদেশে আটকে থাকা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ছাড় চায়। একই সঙ্গে ট্রাম্পের ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংসের দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। এ ছাড়া ইরান জোর দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যৎ যেকোনো চুক্তি আলোচনায় লেবানন ইস্যুকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তথ্যসূত্র: এএফপি
