প্রকাশিত: ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি দর্শনার্থী এবং চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে যাওয়া বিদেশিদের ক্ষেত্রে নতুন কিছু বিধান কার্যকর করা হয়েছে। ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স রুলস, ২০২৫’-এ সংশোধন এনে সম্প্রতি এসব পরিবর্তন ঘোষণা করা হয়।
কেন এই পরিবর্তন?
ভারত সরকারের এই পদক্ষেপের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা এবং বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনেক বিদেশি পর্যটক বা চিকিৎসা ভিসায় ভারতে প্রবেশের পর নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন অবস্থান করেন। ফলে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে এবং অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের শনাক্ত করতে সরকার নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। এছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেও এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন নিয়মে কী পরিবর্তন এসেছে?
আগের বিধান অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক ভারতে টানা ১৮০ দিন অবস্থান করার পর নিবন্ধনের জন্য অতিরিক্ত ১৪ দিনের সময় পেতেন। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলেও ওই গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করা যেত।
তবে নতুন নিয়মে এই অতিরিক্ত ১৪ দিনের সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। এখন ১৮০ দিনের বেশি ভারতে থাকতে চাইলে ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ভারত সরকার জানিয়েছে, বিশেষ বা জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ১৮০ দিনের বেশি অবস্থানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
ডিজিটাল সেবায় জোর
নিয়ম কঠোর করার পাশাপাশি বিদেশিদের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
অনলাইনে আপিলের সুযোগ: ভিসা বা অবস্থান সংক্রান্ত কোনো জটিলতা দেখা দিলে বিদেশি নাগরিকরা এখন সরাসরি ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনের গভর্নরের কাছে অনলাইনের মাধ্যমে আপিল করতে পারবেন।
আপিল নিষ্পত্তিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা: আগে এ ধরনের আপিলের নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লেগে যেত। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শিশুদের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা
নিয়মের কড়াকড়ির মধ্যেও একটি ক্ষেত্রে সহজীকরণ করা হয়েছে। ভারতে বিদেশি দম্পতির ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্বসংক্রান্ত প্রক্রিয়া আগের তুলনায় সহজ করা হয়েছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, যদি নবজাতকের বাবা বা মা-যে কোনো একজন ভারতীয় নাগরিক হন এবং শিশুটি ভারতীয় নাগরিকত্ব বহাল রাখে, তাহলে তার জন্য আলাদাভাবে ইমিগ্রেশনে জন্ম নিবন্ধন করার বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
সার্বিকভাবে, নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে ভারত সরকার একদিকে যেমন ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়, অন্যদিকে ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে বিদেশিদের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করার চেষ্টা করছে।
