রবিবার ০৭, জুন ২০২৬

রবিবার ০৭, জুন ২০২৬ -- : -- --

রাঙামাটির আসামবস্তি শ্মশানের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে মীর হেলালের উদ্যোগ

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি

রাঙামাটি শহরের অন্যতম বৃহৎ আসামবস্তি হিন্দু-বৌদ্ধ কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালের উদ্যোগে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

জানা গেছে, শ্মশানটির অবকাঠামোগত সমস্যা ও তীব্র পানিসংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত একটি স্ট্যাটাস প্রতিমন্ত্রীর নজরে আসে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

পরে স্থানীয় বাসিন্দা, শ্মশান পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে সেখানে একটি গভীর নলকূপ (ডিপ টিউবওয়েল) স্থাপন করা হয়। এতে মৃতদেহ সৎকারের সময় দীর্ঘদিনের পানির সংকটজনিত ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

শ্মশান কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, গত ১৭ থেকে ১৮ বছর ধরে শ্মশানটির উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি প্রবেশ সড়কের অবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। তারা বলেন, “ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল যে আন্তরিকতা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন এবং দ্রুত একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের ব্যবস্থা করেছেন, তা আমাদের অত্যন্ত আনন্দিত করেছে। তিনি আরও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন।”

রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ সাব্বির বলেন, “পাহাড়ের মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু ব্যারিস্টার মীর হেলাল সবসময় এখানকার মানুষের সমস্যা, বঞ্চনা ও চাহিদার বিষয়ে সজাগ থাকেন। একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে অল্প সময়ের মধ্যেই এখানে একটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করেছি। পাশাপাশি শ্মশানটির আরও কী কী উন্নয়ন প্রয়োজন, সে বিষয়েও আমরা কাজ করছি।”

শ্মশান কমিটির সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন ত্রিপুরা বলেন, “গত ১৫-১৬ বছরে এই শ্মশানের তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। ব্যারিস্টার মীর হেলালের উদ্যোগে পানির স্থায়ী ব্যবস্থা হওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নমূলক কাজের যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, সেটিও আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক।”

স্থানীয় বাসিন্দা, শ্মশান কমিটি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ উদ্যোগের জন্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আসামবস্তি হিন্দু-বৌদ্ধ কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের সাধারণ সম্পাদক ও শিব মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাবলা মিত্র, মারমা সংস্কৃতি সংস্থার (মাসস) সাধারণ সম্পাদক নয়ন মার্মা, শ্মশান পরিচালনা কমিটির উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক বাবুল নাথ, রাঙামাটি জেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ সাব্বির, সাবেক সহ-সভাপতি খুরশিদ আলম রাজু, রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. ওমর মোরশেদ, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রনি দে প্রমুখ।

Link copied!