প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, ০৬:২৮ এএম
বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের চলমান ‘গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর রোডশো’র অংশ হিসেবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও সহযোগিতা কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সিউলে অনুষ্ঠিত এসব আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
দিনের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান SK hynix-এর অ্যাডভান্স টিমের সঙ্গে বিএসআইএ প্রতিনিধিদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং, কর্মী উন্নয়ন, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
পরবর্তীতে বিএসআইএ-এর সদস্য প্রতিষ্ঠান ডাইন্যামিক সলিউশন্স ইনোভেটরস (ডিএসআই), প্রাইম সিলিকন টেকনোলজি লি:, সিলিকোনোভা লিমিটেড, উলকাসেমি প্রাইভেট লিমিটেড এবং নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেডের প্রতিনিধিরা কোরিয়ান সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন হাউস SuperGate-এর সঙ্গে বৈঠক করেন।
এ বৈঠকে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ভেরিফিকেশন, এমবেডেড সিস্টেম, এআই-নির্ভর চিপ ডিজাইন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সাপোর্ট নিয়ে সম্ভাব্য যৌথ কাজের বিষয় গুরুত্ব পায়।
এছাড়া বিএসআইএ প্রতিনিধিদল Korea Semiconductor Industry Association (কেএসআইএ)-এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করে। বৈঠকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর স্থিতিশীলতা, ট্যালেন্ট মোবিলিটি এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্প সহযোগিতার লক্ষ্যে সম্ভাব্য “১৫-দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর অ্যালায়েন্স” গঠনের বিষয় আলোচনা হয়।
এছাড়া যৌথ প্রশিক্ষণ, গবেষণা, একাডেমিক কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ-কোরিয়া সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে বৈশ্বিকভাবে উপস্থাপনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। কেএসআইএ নেতৃত্ব বাংলাদেশের তরুণ জনশক্তি, প্রকৌশল সক্ষমতা এবং কৌশলগত অবস্থানের প্রশংসা করে।
তাদের মতে, সঠিক নীতিগত সমন্বয়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের সম্ভাবনাময় সেমিকন্ডাক্টর হাবে পরিণত হতে পারে।
দিনব্যাপী কার্যক্রম শেষে বিএসআইএ এবং সিউলে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সিউল-এর যৌথ আয়োজনে এক ব্যাঙ্কুয়েট রিসেপশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কোরিয়া ও বাংলাদেশের শিল্পনেতা, গবেষক, একাডেমিক প্রতিনিধি ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কেএসআইএ প্রতিনিধি, বিএসআইএ সভাপতি এম এ জব্বার এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম শাতিল।
এ সময় Purdue University-এর অধ্যাপক মুহাম্মদ মোস্তফা হোসেন “Vision of Bangladesh for Semiconductor Packaging” শীর্ষক উপস্থাপনায় অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং, হেটারোজেনিয়াস ইন্টিগ্রেশন, এআই-নির্ভর অবকাঠামো এবং ভ্যালু-ক্রিয়েশনভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
