প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে তামাকজাত পণ্যের মূল্য ও কর বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন নারী মৈত্রীর আয়োজিত এক আলোচনা সভার বক্তারা। তারা বলেন, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস করে বাজারে বিদ্যমান সিগারেটের চারটি স্তর কমিয়ে তিনটিতে আনা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নারী মৈত্রী আয়োজিত “তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণদের সুরক্ষায় তামাকজাত দ্রব্যে কর বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা” শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
সভায় বক্তারা প্রস্তাব করেন, দুটি স্তর একত্রিত করে ১০ শলাকার এক প্যাকেট সিগারেটের দাম ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরের প্যাকেট ১৫০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তরের প্যাকেট ২০০ টাকা নির্ধারণ করা উচিত। পাশাপাশি সকল স্তরের সিগারেটের ওপর বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা নির্দিষ্ট করারোপের দাবি জানান তারা।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে আমরা তরুণদের শক্তি দেখতে পেয়েছি। বর্তমান সরকারও তরুণ নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। একদিকে তরুণরা দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে তামাক কোম্পানিগুলো নিজেদের মুনাফার জন্য তাদের আসক্তির পথে ঠেলে দিচ্ছে। তামাক কোম্পানিকে লাভবান রেখে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর। আসন্ন বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যে কর ও মূল্য বৃদ্ধি করে সে লক্ষ্যে আরও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমি সংসদ অধিবেশনে বিষয়টি উপস্থাপন করবো।”
নারী মৈত্রী তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরামের আহ্বায়ক শিবানী ভট্টাচার্য বলেন, “বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও বিড়ি-সিগারেটের দাম তুলনামূলকভাবে কম। ফলে এগুলো এখনো তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। এজন্য তামাকসেবন কমছে না, বরং বাড়ছে।”
বিষয়ভিত্তিক প্রেজেন্টেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, দেশে তামাকপণ্যের খুচরা মূল্য বা ভিত্তিমূল্য কম হওয়ায় করহার বেশি হলেও তা তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ কিংবা সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।
তিনি বলেন, “এই ত্রুটিপূর্ণ কর-কাঠামোর সুযোগ নিয়ে তামাক কোম্পানিগুলো কর না বাড়ানোর জন্য রাজস্ব বোর্ডকে প্রভাবিত করে। কিন্তু মূল্য বৃদ্ধি ও কার্যকর করারোপ করা হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে।”
তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে সরকার ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি তামাক কর রাজস্ব পেতে পারে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।
নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলির সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় নারী মৈত্রী তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরাম, শিক্ষক ফোরাম, সাংবাদিক ফোরাম ও ইয়ুথ ফোরামের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
