বুধবার ১৩, মে ২০২৬

বুধবার ১৩, মে ২০২৬ -- : -- --

আধুনিক সেবা থেকে পিছিয়ে বুটেক্স কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

বুটেক্স লাইব্রেরি

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের প্রধান জ্ঞানকেন্দ্র হলেও নানা সীমাবদ্ধতায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। সময়সূচির জটিলতা, তীব্র আসন সংকট, পুরোনো সংস্করণের বই, বৈচিত্র্যহীন সংগ্রহ এবং আধুনিক অটোমেশন ব্যবস্থার অভাবে ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, লাইব্রেরি সকাল ৯টায় খুললেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো সকাল ৮টার আগেই ক্যাম্পাসে পৌঁছে যায়। ফলে দূর থেকে আসা শিক্ষার্থীদের দিনের প্রথম এক ঘণ্টা কার্যত নষ্ট হচ্ছে। ক্লাস না থাকলেও এ সময় লাইব্রেরিতে বসে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন না তারা।

লাইব্রেরি সূত্রে জানা গেছে, আগে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা থাকলেও জ্বালানি সংকটকালীন সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমানে সময় কমিয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো দীর্ঘ সময় বা দুই শিফটে লাইব্রেরি সেবা চালু রয়েছে। সে তুলনায় বুটেক্স লাইব্রেরির বর্তমান সময়সূচি শিক্ষার্থীদের জন্য সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারদিন বিন আমান বলেন, “সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সময়টা আমরা কাজে লাগাতে পারছি না। পরীক্ষার সময় এই এক ঘণ্টা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য লাইব্রেরি সকাল ৮টা থেকে খোলা রাখা জরুরি।”

লাইব্রেরির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। পড়ার স্থান ও কম্পিউটার সেকশন একই কক্ষে থাকায় প্রায়ই শব্দ ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে।

৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইকরামুল হাসান বলেন, “লাইব্রেরি সম্পূর্ণ শান্ত পরিবেশ হওয়া উচিত। কম্পিউটার সেকশনটি আলাদা কক্ষে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীর তুলনায় লাইব্রেরির পরিধিও ছোট।”

অন্যদিকে ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ সিয়াম জানান, লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় ও হালনাগাদ বইয়ের ঘাটতি রয়েছে। তার অভিযোগ, অনেক বই পুরোনো ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া একাডেমিক বইয়ের বাইরে সাহিত্যবিষয়ক বইয়ের সংগ্রহও সীমিত।

দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল বুক সার্চ ও ই-রিসোর্স সুবিধা চালু থাকলেও বুটেক্স এখনো সেই সুবিধা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। অটোমেশন ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে সময় ব্যয় করে বই খুঁজতে হচ্ছে।

লাইব্রেরি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সেখানে প্রায় ২৩ হাজার বই রয়েছে। বিষয়ভিত্তিকভাবে সাজানো এই সংগ্রহে একাডেমিক বইয়ের পাশাপাশি কিছু সাহিত্যবিষয়ক বইও রয়েছে। প্রতিবছর বিভাগীয় চাহিদা অনুযায়ী নতুন বই সংযোজন এবং পুরোনো বই মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে মাত্র তিনজন কর্মী দিয়ে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় সেবা সম্প্রসারণে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বারবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও স্থায়ী লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ না হওয়ায় বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে লাইব্রেরির কার্যক্রম পরিচালনা করছেন ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এস এম ফারহানা ইকবাল।

তিনি বলেন, “স্থায়ী লাইব্রেরিয়ান না থাকায় আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এটি পরিচালনা করছি। অটোমেশনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। একজন শিক্ষক হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাড়তি চাপও সামলাতে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে বই পড়ার অনীহা রয়েছে, যা নতুন বইয়ের চাহিদা নির্ধারণেও প্রভাব ফেলে। তবে চাহিদা থাকলে নতুন বই সংগ্রহ করা সম্ভব।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. শরীফুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধা প্রশাসনের অগ্রাধিকার। তিনি জানান, “সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলার বিষয়ে আমরা ইতিবাচক। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা আবেদন করলে বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হবে।”

স্থায়ী লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ ও অটোমেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউজিসির অনুমোদন সাপেক্ষে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অটোমেশন প্রকল্প সম্পন্ন হলে লাইব্রেরির বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান সহজ হবে।

Link copied!