প্রকাশিত: ০২ মে ২০২৬, ০২:১১ এএম
মহান মে দিবসের প্রেক্ষাপটে যখন শ্রমিকদের অধিকার ও নির্ধারিত কর্মঘণ্টার ইতিহাস স্মরণ করা হচ্ছে, তখন প্রযুক্তির আধুনিক কেন্দ্রগুলোতে ভিন্ন এক বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)–নির্ভর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গিয়ে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি অঞ্চল সিলিকন ভ্যালিতে দীর্ঘ কর্মঘণ্টার নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
১৮৮৬ সালে শিকাগোর হে মার্কেটের আন্দোলনের মাধ্যমে যে আট ঘণ্টা কর্মদিবসের ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, আজ সেই কাঠামো প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্কৃতির চাপে বদলে যেতে বসেছে। বিশেষ করে সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক বিভিন্ন এআই স্টার্টআপে কর্মীদের প্রতিদিন ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার প্রবণতা বাড়ছে।
এখানে ‘৯৯৬’ নামে পরিচিত একটি কর্মসংস্কৃতি ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যেখানে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করতে হয়। একটি এআই স্টার্টআপের সহপ্রতিষ্ঠাতা জানিয়েছেন, সপ্তাহের সাত দিনই তাঁকে গড়ে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয় এবং কাজ ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে ভারসাম্য প্রায় নেই বললেই চলে।
এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের দীর্ঘ সময় অফিসেই অবস্থান করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, কর্মীরা অফিসেই দিনের অধিকাংশ সময় কাটাচ্ছেন—এমনকি রাত পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সিলিকন ভ্যালির কিছু স্টার্টআপে কর্মীরা ভোররাত পর্যন্ত কাজ করছেন বলেও জানা গেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এক দশক আগে স্টার্টআপ সংস্কৃতিতে উদ্দীপনা ও উদ্ভাবনের যে পরিবেশ ছিল, এখন তা প্রতিযোগিতা ও টিকে থাকার চাপে বদলে গেছে। এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে, যা তাদের আরও বেশি সময় কাজ করতে বাধ্য করছে।
প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও কর্মীদের জন্য পূর্বের মতো সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে না। ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় আড়াই লাখ প্রযুক্তি কর্মীর চাকরি হারানোর পেছনে এআই একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ফলে কর্মীরা এখন ক্লান্তি বা ব্যক্তিগত সময়ের অভাব নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতেও সংকোচ বোধ করছেন।
একজন এক্সিকিউটিভ কোচের ভাষায়, আগে সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের হাতে বেশি ক্ষমতা থাকলেও এখন তা প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে ঝুঁকেছে। কর্মীদের মধ্যে ছাঁটাইয়ের ভয় কাজ করছে, যা তাদের অতিরিক্ত শ্রম দিতে বাধ্য করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে যে উন্নত অর্থনীতির প্রায় ৬০ শতাংশ চাকরি এআইয়ের কারণে পরিবর্তিত বা বিলুপ্ত হতে পারে।
