প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৭ এএম
বিশ্বজুড়ে জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বিস্তার নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেক শিল্পীর অভিযোগ—এআই তাদের সৃষ্টিশীল কাজ অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করছে, যা একধরনের ‘শিল্পচুরি’। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ এ অভিযোগকে পুরোপুরি সমর্থন করছেন না।
ঐতিহাসিকভাবে আলোচিত শিল্পচোর স্টেফান ব্রেটওয়াইজার ১৯৯৫ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে ১৭২টি জাদুঘর থেকে প্রায় ২০০ শিল্পকর্ম চুরি করেছিলেন। কিন্তু কিছু শিল্পীর মতে, বর্তমান সময়ের জেনারেটিভ এআই সেই তুলনায় আরও বড় পরিসরে শিল্পকর্ম ব্যবহার করছে।
যুক্তরাজ্যের শিল্পী মলি ক্র্যাবঅ্যাপল ২০২২ সালে প্রথম লক্ষ্য করেন, তার কাজের অনুরূপ ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন,
“সেগুলো ঠিক আমার কাজ ছিল না, আমার শৈলীর এক অদ্ভুত অনুকরণ। মনে হচ্ছিল, যেন ঘুমের ওষুধ খাওয়া কোনো কম মেধাবী কিশোর আমার আঁকা রেখা ও আঁচড়গুলোকে যান্ত্রিকভাবে নকল করেছে। আমি দ্রুতই এর কারণ বুঝতে পারলাম। এআই ইমেজ জেনারেটর ইন্টারনেট থেকে আমার সারা জীবনের সমস্ত কাজ স্ক্র্যাপ বা হাতিয়ে নিয়েছে এবং তাদের বটকে তা খাওয়ানো হয়েছে। আমার কাজ পণ্য হিসেবে চ্যাটবট যেন উগরে দিতে পারে। এটা শুধু আমার সঙ্গে ঘটেনি, ঘটেছে সবার সঙ্গে। কোনো ধরনের স্বীকৃতি, ক্ষতিপূরণ বা সম্মতি ছাড়াই ইন্টারনেট থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। আমি একে ইতিহাসের বৃহত্তম শিল্প চুরি হিসেবে দেখি।”
এআই প্রযুক্তির সমালোচনার পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতের পক্ষ থেকেও ভিন্ন মতামত উঠে এসেছে। ২০২৩ সালে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট মার্ক অ্যান্ড্রিসেন দাবি করেন, মেধাস্বত্ব আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলে এআই শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
একই বছরে ইতালির পেরুজিয়ায় অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিকতা উৎসবে প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা জানান, গণমাধ্যমকে টিকে থাকতে হলে এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় তারা সময়ের সঙ্গে পিছিয়ে পড়বে।
এদিকে, শিল্পী ও সাংবাদিকদের একটি অংশ এআই ব্যবহারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। মলি ক্র্যাবঅ্যাপলসহ বেশ কয়েকজন একটি খোলাচিঠিতে সংবাদমাধ্যমে এআই-নির্মিত ছবি ব্যবহারের বিরোধিতা করেন। এছাড়া ২০২৩ সালে কয়েকজন ইলাস্ট্রেটর জনপ্রিয় এআই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন, যা এখনো বিচারাধীন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই ও সৃজনশীলতার এই দ্বন্দ্ব মূলত প্রযুক্তি, নৈতিকতা এবং মেধাস্বত্বের জটিল প্রশ্নকে সামনে এনেছে। ভবিষ্যতে এই ইস্যুতে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে—এআই কি শিল্পের সহায়ক হবে, নাকি প্রতিদ্বন্দ্বী।
