প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১২ পিএম
দীর্ঘদিন পর আবারও চাঁদকেন্দ্রিক মানব অভিযানে গতি এসেছে। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর এবার আর্টেমিস–২ মিশনের মাধ্যমে চার নভোচারী চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছেছেন। যদিও তাঁরা চাঁদে অবতরণ করেননি, তবে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরবর্তী অঞ্চলে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার এই কর্মসূচির লক্ষ্য ভবিষ্যতে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে একটি স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করা। সেখানে নভোচারীরা দীর্ঘ সময় অবস্থান করে গবেষণা চালাবেন। এর মাধ্যমে জানা যাবে, চাঁদের পরিবেশে দীর্ঘদিন বসবাস করলে মানবদেহে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, চাঁদের পরিবেশ মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রতিকূল। এটিকে তাঁরা “স্পেস এক্সপোজোম” হিসেবে অভিহিত করছেন, যেখানে শরীরকে নানা চরম অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। চাঁদের মহাকর্ষ শক্তি পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ হওয়ায় শরীরের রক্ত ও অন্যান্য তরলের স্বাভাবিক প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটে। এতে স্নায়ুতন্ত্র ও রক্তনালির কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ ছাড়া চাঁদে পৃথিবীর মতো শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র না থাকায় নভোচারীরা সরাসরি মহাজাগতিক বিকিরণের মুখোমুখি হন। এই বিকিরণ ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ক্যানসার বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। চাঁদের ধূলিকণাও ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত।
মানসিক দিক থেকেও চাঁদের পরিবেশ চ্যালেঞ্জিং। দীর্ঘ সময় পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকায় নভোচারীদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।
তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণা চলছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নভোচারীরা প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে পেশি ও হাড়ের ক্ষয় রোধ করেন। চাঁদের জন্য বিশেষ ব্যায়াম সরঞ্জাম তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ডায়েট পরিকল্পনা, গ্রিনহাউসের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন এবং বিকিরণ প্রতিরোধী অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া কৃত্রিম মহাকর্ষ সৃষ্টির জন্য সেন্ট্রিফিউজ প্রযুক্তি নিয়েও পরীক্ষা চলছে, যা ভবিষ্যতে মহাকাশে মানব বসবাসকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলতে পারে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ সফল হলে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব বসতি স্থাপন আর কেবল কল্পনা নয়, বাস্তবতার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।
