প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় চারজন দাখিল পরীক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মোটরসাইকেল চালক ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা নিয়েছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিভাবকরা।
অভিযোগে জানা যায়, গত ১০ মে লংগদু সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা শেষে বাগাচতর ইউনিয়নের মহাজনপাড়া মাদ্রাসার চার পরীক্ষার্থী নৌকা পার হয়ে মোটরসাইকেল স্ট্যান্ডে যান। সেখানে যানবাহনের সংকট থাকায় তারা হেঁটে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন সাকিবুল হাছান (১৭), রিফাত (১৬), ইয়াছিন (১৭) ও রাকিবুল ইসলাম (১৭)।
শিক্ষার্থীদের দাবি, মোটরসাইকেল চালক সাগর তাদের নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পরে সঙ্গে থাকা দুই ছাত্রীকে গাড়িতে তুলে নেন। এসময় শিক্ষার্থীরা ছাত্রীদের কৃষি শিক্ষার খাতা দিয়ে যেতে বললে চালকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সাগর এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন।
তাদের অভিযোগ, পরে সাগর তার স্বজনদের ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। এরপর অভিযুক্তরা চার শিক্ষার্থীকে রাস্তার নিচে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন। এতে তারা আহত হন।
আহত শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে পরে পরীক্ষায় অংশ নিলেও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মোটরসাইকেল চালক সাগর, তার বাবা ওলাকত, হাসান, সাইমুন, তারা মিয়া, সুরুজ মিয়া, রাজন ও আবুল কালামসহ আরও কয়েকজন।
এ ঘটনায় দ্রুত বিচার দাবি করেছেন অভিভাবকরা। পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে অভিভাবক শাহ আলম বাদী হয়ে লংগদু থানায় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাগর। তিনি বলেন, “আমি তাদের গাড়িতে নেইনি এটা সত্য। পরে তারা আমাদের গাড়ি থামিয়ে মেয়েদের নামতে বলে। একপর্যায়ে তারা আমাকে মারার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে আমি একজনকে ধাক্কা দিই। পরে তারাই আমাকে মারধর করে।”
একসঙ্গে ১০-১২ জন মিলে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ।”
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা হাফেজ শাহজান বলেন, “আমার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ওপর এ ধরনের নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার চাই। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”
লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, “অভিভাবকরা আজ বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
