মোঃ রিদয় হোসাইন,ডুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৭ মে ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
বৃহস্পতিবার ০৭, মে ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির বর্তমান অবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকট, অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং আধুনিকায়নের অভাবে শিক্ষার্থীরা কার্যকর শিক্ষা পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ডুয়েট সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে এখনও মূলত ২০০৩ সালের পুরোনো আসবাবপত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটলেও লাইব্রেরির পরিবেশে সেই পরিবর্তনের ছাপ নেই। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করে, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
নিয়মিত মশা নিধনের স্প্রে ব্যবহার করা হলেও তা কার্যকর নয় বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। এমনকি কেউ কেউ লাইব্রেরিতে পড়তে এসে সঙ্গে করে মশার কয়েল নিয়ে আসছেন বলেও জানা গেছে।
এছাড়া পরীক্ষা চলাকালে লাইব্রেরিতে আসন সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। বছরের অন্যান্য সময়ে অনেক আসন ফাঁকা থাকলেও পরীক্ষার সময় পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনার অভাবে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পাশাপাশি গ্রুপ স্টাডির জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় একাডেমিক আলোচনা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
একজন শিক্ষার্থী বলেন, “গ্রুপ স্টাডির জন্য ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা বিষয়টি খুব ভালোভাবেই অনুভব করছি। বর্তমানে একটি গ্রুপ স্টাডি জোনের ব্যবস্থা করা সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।রিডিং রুমের পরিবেশ নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।”
এক শিক্ষার্থী জানান, “লাইব্রেরিতে কম্পিউটারের সংখ্যা খুবই কম এবং অধিকাংশই ব্যবহার অনুপযোগী। এছাড়া শুধু স্প্রে করার পরিবর্তে মশা নিয়ন্ত্রণে ‘মশা নিধন যন্ত্র’ স্থাপন করা প্রয়োজন।”
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, লাইব্রেরির প্রযুক্তিগত সুবিধা উন্নত না হওয়ায় গবেষণা, উপস্থাপনা ও অন্যান্য একাডেমিক কাজে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মোবারক হাসান বলেন, একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি হওয়া উচিত প্রযুক্তিনির্ভর, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, শিগগিরই ডুয়েট সেন্ট্রাল লাইব্রেরিকে আধুনিক ও যুগোপযোগী রূপ দেওয়া হবে।