প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জাবিসাস)-এর ২০২৬ কার্যনির্বাহী পরিষদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর ও বিদায়ী সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নতুন কমিটির অভিষেক ঘটে। দায়িত্ব হস্তান্তর ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে ক্যাম্পাসে পোনা অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি। বিদায়ী কমিটির সভাপতি মেহেদী মামুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক রাজিব রায়হান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, "একটি গণতান্ত্রিক সরকারের পথচলা সঠিক ও স্বচ্ছ হয় তখনই, যখন সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে। আর এই জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রধান মাধ্যম হলো স্বাধীন গণমাধ্যম।" তিনি তরুণ সাংবাদিকদের সৃজনশীল ও নিষ্ঠাবান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকতা জনগণের সেবায় নিয়োজিত একটি মহান পেশা। এই পেশার মান রক্ষায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো সাহসের সাথে মোকাবিলা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে 'গেস্ট অব অনার' হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তিনি সাংবাদিকদের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "অসহায় মানুষের জন্য স্বস্তি তৈরি করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের মনে অস্বস্তি তৈরি করাই হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের প্রকৃত কাজ।" উপাচার্য আরও যোগ করেন যে, সমালোচনা করার সৎ সাহস থাকা ভালো, তবে কুৎসা ও গঠনমূলক সমালোচনার মধ্যকার পার্থক্য সাংবাদিকদের বুঝতে হবে।
নবনির্বাচিত সভাপতি মাহ আলম তার সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "১৯৭২ সাল থেকে জাবিসাস বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারা বজায় রেখেছে। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য প্রকাশ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।" তিনি সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত 'ইন-হাউস ট্রেনিং' আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. রাশিদুল আলম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে জাকসু ভবনের পাশের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয় এবং ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
