প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের একটি প্রকল্পে চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলার তালতলা সপ্তপল্লী উচ্চবিদ্যালয়ে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি দোতলা একাডেমিক ভবনে সিঁড়ি না থাকায় সেটি কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিন ধাপে ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়। প্রথম ধাপে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মেসার্স রাজা অ্যান্ড কোং ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু করে। দ্বিতীয় ধাপে ২০১৯-২০ অর্থবছরে মেসার্স জুয়েল এন্টারপ্রাইজ ৫ লাখ টাকা ব্যয় করে। সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরে মেসার্স জাহান ট্রেডার্স ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ শেষ করে। তবে পুরো প্রকল্পে কোথাও সিঁড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়নি, যা নিয়ে এলাকায় বিস্ময় ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ভবনের নিচতলায় সীমিত আকারে পাঠদান চললেও ওপরের তলাটি সম্পূর্ণ অচল অবস্থায় পড়ে আছে। সিঁড়ি না থাকায় সেখানে শিক্ষার্থীদের ওঠানামা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, নিচতলায় কক্ষ সংকট তীব্র হওয়ায় বড় কক্ষকে বাঁশের চাটাই দিয়ে ভাগ করে একাধিক শ্রেণির ক্লাস নিতে হচ্ছে, যা শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, নতুন ভবন থাকা সত্ত্বেও তারা প্রয়োজনীয় সুবিধা পাচ্ছে না। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী চৈত্র রায় ও অষ্টম শ্রেণির সবুজ মন্ডল বলেন, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় তাদের কষ্ট করে পাঠ গ্রহণ করতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে যথাযথ তদারকির অভাব ছিল। ফলে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ বন্ধু রায় বলেন,"দীর্ঘ চার বছর ধরে ভবনটি এভাবেই পড়ে আছে। সিঁড়ি না থাকায় শিক্ষার্থীরা ভবনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।"
এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন,"মূলত অর্থ সংকটের কারণে সিঁড়ির অংশটুকু তখন শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি এখন গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সমাধান করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
প্রশাসনের এই আশ্বাসের পরও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে শিক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
