সোমবার ০৪, মে ২০২৬

সোমবার ০৪, মে ২০২৬ -- : -- --

নোবিপ্রবির গবেষণায় নতুন মাইলফলক, স্কোপাস প্রকাশনায় শীর্ষে

ফাইল ফটো

দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে ধারাবাহিক উন্নয়নের নজির স্থাপন করছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও গবেষণার মানোন্নয়ন ও প্রকাশনার সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে ২০২৬ সালে স্কোপাস ইনডেক্স জার্নালে প্রকাশনার দিক থেকে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তথ্য অনুযায়ী, নোবিপ্রবির মোট গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যা বর্তমানে ২ হাজার ৮৯৩টি এবং মোট লেখক সংখ্যা ১ হাজার ৫২৫ জন। গত কয়েক বছরে গবেষণা প্রকাশনার ধারাবাহিক বৃদ্ধি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ২০২০ সালে ১৮৬টি প্রকাশনা থেকে শুরু করে ২০২১ সালে ৩১৮টি, ২০২২ সালে ৩৫৬টি, ২০২৩ সালে ৪১৯টি এবং ২০২৪ সালে ৪৮৯টিতে উন্নীত হয়। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৫৪টিতে। চলতি ২০২৬ সালেও ইতোমধ্যে ২০০টি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে, যা বছরের শেষে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গবেষণার ক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায়ও নোবিপ্রবির এই অগ্রগতি তাৎপর্যপূর্ণ। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ ২০২৫ সালে ৫৭৩টি এবং ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১৮৯টি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ ২০২৫ সালে ৪৯৬টি ও ২০২৬ সালে ১৯৮টি এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ ২০২৫ সালে ৩৮১টি ও ২০২৬ সালে ১৩৮টি প্রকাশনা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে নবীন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় নোবিপ্রবি এগিয়ে রয়েছে।

অন্যদিকে দেশের বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ ২০২৫ সালে ১ হাজার ৮২১টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এ ৮৮৪টি এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়-এ ১ হাজার ৪৪০টি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। যদিও সংখ্যার দিক থেকে ব্যবধান রয়েছে, তবে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় নোবিপ্রবি আলাদাভাবে নজর কাড়ছে।

গবেষণায় এই ধারাবাহিক সাফল্যের ফলে প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়েও জায়গা করে নিয়েছে নোবিপ্রবি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা Times Higher Education (টিএইচই) প্রকাশিত ২০২৬ সালের বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ে প্রতিষ্ঠানটি ১২০১–১৫০০ ব্যান্ডে অবস্থান করছে। পাশাপাশি এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিং ২০২৬-এ ৬০১–৮০০ ব্যান্ডে স্থান পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং ও স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট সেলের এডিশনাল ডিরেক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাহাদ হোসেন বলেন, “শুধুমাত্র স্কোপাস ইনডেক্সড জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাই র‍্যাঙ্কিং এ বিবেচনায় নেয়া হয়, সেক্ষেত্রে উত্তরোত্তর প্রকাশনা ও সাইটেশন সংখ্যা বৃদ্ধি গবেষণা সম্পর্কিত সূচকসমূহে নোবিপ্রবিকে এগিয়ে রাখবে। র‍্যাঙ্কিং ও স্ট্রাটেজিক ডেভেলপমেন্ট সেল এক্ষেত্রে কৌশলগত উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করছে। স্কোপাসভুক্ত জার্নাল ও কোয়ার্টাইল নিয়ে এখন আগের চেয়ে আরও বেশি সচেতনতা ক্যাম্পাস জুড়ে তৈরি হয়েছে।”

নোবিপ্রবির গবেষণায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অবদান উল্লেখ করে রিসার্চ সেলের পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের আমাদের যারা শিক্ষক আছে এবং ছাত্র আছে তারা মিলেমিশে সীমিত সম্পদের মধ্যে ভালো গবেষণা করার চেষ্টা করতেছে। এটা অবশ্যই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটা অ্যাচিভমেন্ট এবং আমরা যে ভালো করছি এবং আমরা যে এগিয়ে যাব এবং আমাদের সক্ষমতা যে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, রিসার্চ ক্যাপাসিটি এইটা তার প্রতিফলন। আশা রাখছি আমরা ভবিষ্যতে আরো ভালো করবো। আর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার ক্ষেত্রে আরো বেশি এগিয়ে যাবে।”

গবেষণায় প্রণোদনা ও সহায়তা জোরদারের কথা জানিয়ে নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “আমরা শিক্ষকদের প্রণোদনা দিয়েছি, গবেষণার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। গবেষণা ফান্ডিংয়ে স্কোপাস ইনডেক্স জার্নাল বাধ্যতামূলক করেছি। তারই ফল হচ্ছে এটা। আমাদের ছাত্র এবং শিক্ষক সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজকের এই অর্জন। আমরা আশা করি যে আগামী বছরগুলোতে এই সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাবে এবং আমরা সামগ্রিকভাবে সকল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আমরা টপ পজিশনে আসতে পারব।”

গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রকাশনা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত পরিকল্পনার সমন্বয়ে নোবিপ্রবির এই অগ্রযাত্রা দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Link copied!