সোমবার ০৪, মে ২০২৬

সোমবার ০৪, মে ২০২৬ -- : -- --

ঢাবির হলে ‘গেস্টরুমের আমলনামা’, নবীনদের সতর্কবার্তা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

ছবি।ক্যাম্পাস রিপোর্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জহুরুল হক হলে নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ‘গেস্টরুমের আমলনামা’ শিরোনামে একটি ব্যানার টানিয়েছে হল শাখা ছাত্রদল। ব্যানারে বিগত সময়ে হলগুলোতে গেস্টরুম কেন্দ্রিক নির্যাতন ও নিয়ন্ত্রণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির নেতাদের।

গতকাল রোববার ( ০৪ মে) রাতে হলটির অতিথি কক্ষে ব্যানারটি টানানো হয়। এতে তৎকালীন সময়ে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের মেসেঞ্জার কথোপকথনের বিভিন্ন স্ক্রিনশট ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ইসলামী ছাত্রশিবির ও হল সংসদের নেতাসহ মোট ছয়জনকে গেস্টরুম কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যানারে লেখা আছে, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হলে ছাত্রলীগের আমলে এভাবেই চলেছে গেস্টরুমের নির্ঘাতন। ছাত্রলীগের প্রোগ্রাম না করলে ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার হুমকি দিতো ছাত্রলীগের কর্মীরা। ৫ই আগস্টের পর এই লীগের কর্মীরাই একটি নির্দিষ্ট দলের ছত্রছায়ায় এখনো হলে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে। ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান এদের প্ররোচনায় পরে আবারো যাতে গনরুম গেস্টরুম ফেরত না আসে সেই ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।’

ছাত্রদলের দাবি, ব্যানারে উল্লেখিত ব্যক্তিরা অতীতে গেস্টরুম নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন হল সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইসমাইল সাদিক তাহছিন, কার্যনির্বাহী সদস্য তাসনিম রুবাইয়াত, আরাফ মাহমুদ, মো. হাসান আল বান্না, মুস্তাকিম রহমান এবং মাহমুদুল হাসান। মাহমুদুল হাসানকে জহুরুল হক হল ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হিসেবে দাবি করেছে ছাত্রদল।

এ বিষয়ে হল শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামসুল হক আনান বলেন, ‘গুপ্ত শিবির ছাত্রলীগের মধ্যে ‘গুপ্ত’ থেকে গেস্টরুম নেওয়া ও শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতনের কাজ করতো। এগুলো তাদের নিজেদের ‘বিশুদ্ধ ছাত্রলীগ’ প্রমাণ করার অন্যতম একটি পন্থা ছিল। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেখা যায় যে, তাদের বেশিরভাগই শিবির রুপে আত্মপ্রকাশ করে। তাদের এই ভন্ডামি আমরা প্রমাণসহ গেস্টরুমে টাঙ্গিয়ে দিয়েছি, যেখানে দেখা যায় যে তারা কীভাবে শিক্ষার্থীদের ওপরে এই নির্যাতনগুলো করে নিজেরা ছাত্রলীগের সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছে।’

হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান আসিফ বলেন, ‘অতীতে ছাত্রলীগের পরিচয়ের আড়ালে থেকে কিছু ব্যক্তি গেস্টরুম নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যারা বর্তমানে একটি বিশেষ ছাত্রসংগঠনের পরিচয়ে সক্রিয় রয়েছে। এই ধরনের ব্যক্তিদের বিষয়ে নবীনদের সতর্ক করতেই আগের ঘটনার তথ্য ও বিবরণ উপস্থাপন করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে বর্তমানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একক আধিপত্য ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনটি অনেক ক্ষেত্রে ছায়া হল প্রশাসকের ভূমিকা পালন করত বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। হল প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার বাইরে নবীন শিক্ষার্থীদের হলে তোলা, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা এবং সিট বণ্টনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও ছিল।

এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রক্রিয়ার কারণে বৈধভাবে সিট বরাদ্দ পাওয়া অনেক শিক্ষার্থী হলে উঠতে পারতেন না। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মারধর করা এবং রাতের বেলায় হল থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় আসে।

Link copied!