প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২৬, ০৬:২৫ এএম
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের আয়োজনে এবং অ্যালামনাইদের সহযোগিতায় ওয়েব চলচ্চিত্র ‘চা গরম’-এর বিশেষ প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চলচ্চিত্রচর্চা, সামাজিক সচেতনতা ও সমকালীন বাস্তবতা অনুধাবনের একটি একাডেমিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়।
ডিসিপ্লিনের তত্ত্বাবধানে সকাল ১১টায় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল ৪টায় সবার জন্য উন্মুক্ত প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাই অংশ নেন।
প্রদর্শনী শেষে চলচ্চিত্রটি নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা চলচ্চিত্রের কাহিনি, নির্মাণশৈলী ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
ডিসিপ্লিনের প্রধান সারা মনামী হোসাইন বলেন, “আমাদের ডিসিপ্লিন শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ নয়; আমরা শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করতে চাই। অ্যালামনাইদের সম্পৃক্ততা এ ধরনের আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করে।” তিনি জানান, ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ও ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কার্যকর সুযোগ তৈরি করা হবে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিফতাহুল ইসলাম মাহিন বলেন, “চলচ্চিত্রটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম তুলে ধরেছে। এ ধরনের আয়োজন আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে এবং একাডেমিক পড়াশোনাকে আরও বাস্তবধর্মী করে তোলে।”
আলোচনা পর্বে ‘দেলুপি’ চলচ্চিত্রের পরিচালক মোহাম্মদ তৌকীর ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ‘চা গরম’ চলচ্চিত্রের লেখক সাইফুল্লাহ রিয়াদ, পরিচালক শঙ্খ দাশগুপ্ত এবং অভিনেতা রেজওয়ান পারভেজসহ টিমের সদস্যরা অংশ নেন। তাঁরা চলচ্চিত্র নির্মাণের পেছনের অভিজ্ঞতা, গল্প নির্মাণের প্রক্রিয়া এবং বাস্তবতা পর্দায় উপস্থাপনের বিভিন্ন দিক নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে নির্মিত ‘চা গরম’ চলচ্চিত্রটির কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন সাইফুল্লাহ রিয়াদ এবং পরিচালনা করেছেন শঙ্খ দাশগুপ্ত। এতে অভিনয় করেছেন সাফা কবির, পার্থ শেখ, সারাহ জেবিন অদিতি ও রেজওয়ান পারভেজসহ অন্যরা। চলচ্চিত্রটি সিলেট অঞ্চলের চা শ্রমিকদের জীবনযাপন ও চা বাগানকেন্দ্রিক বাস্তবতা তুলে ধরে।
আয়োজকরা বলছেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের এ উদ্যোগ ও অ্যালামনাইদের সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি তাদের পেশাগত দক্ষতা ও সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
