রবিবার ০৫, এপ্রিল ২০২৬

রবিবার ০৫, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

ফাইল ফটো

দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকার সপ্তাহে তিন দিন অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত তুলে ধরেছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নায়িমা আখতার।

 

অনলাইন ক্লাস ও বাস্তবতা:

কথিত আছে যে “যদি কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে চাও তাহলে তার শিক্ষা ব্যবস্থা কে ধ্বংস করে দাও”। আর অদ্ভুত ভাবে এদেশে কোনো সমস্যা বা সংকট দেখা দিলে সবার আগে বন্ধ হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে শিক্ষা খাতে। কোভিড-১৯ তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বন্ধ হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শুরু হয় অনলাইন ক্লাস যার ফলাফল মোটেও সন্তোষজনক হয়নি। অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রে পূর্বশর্ত হলো একটি ডিজিটাল ডিভাইস ও ইন্টারনেট সংযোগ। আমাদের সবার আগে মাথায় রাখা উচিৎ যে শিক্ষা শুধু উচ্চবিত্তদের জন্য নয়, নিম্ন এবং নিম্নমধ্যবিত্তদের ও শিক্ষার অধিকার সমান। এদেশের অনেক নিম্ন এবং নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে ডিজিটাল ডিভাইস নেই এবং অনেক পরিবারে একটি ডিজিটাল ডিভাইস থাকলেও সন্তান সংখ্যা একাধিক। এক্ষেত্রে নিম্ন এবং নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের পক্ষে ক্লাসে অংশগ্রহণ করা শুধু কঠিনই নয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা অসম্ভব। এছাড়াও এদেশের বাস্তবতায় প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলোতে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ওয়াইফাই সুবিধার কিছুটা প্রসার ঘটলেও লোডশেডিং যেখানে নিত্যসঙ্গী সেখানে ক্লাসে ব্যাঘাত ঘটা অনিবার্য। এছাড়াও অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অমনোযোগীতা, সমন্বয়হীনতার বিষয় তো আছেই। তাহলে এই জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় করনীয় কি হতে পারে? এই সংকট মোকাবিলায় জ্বালানির ব্যবহার কমাতে ব্যক্তিগত পরিবহন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, এবং সকল প্রতিষ্ঠানে এসির ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর সমাধান হতে পারে। একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে একজনের জন্য যে জ্বালানি খরচ হয়, পাব্লিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করলে ১০-১৫ জনের জন্য সেই সমপরিমাণ জ্বালানি খরচ হয়। পাব্লিক ট্রান্সপোর্ট বাধ্যতামূলক করা হলে এই সংকট কালীন পরিস্থিতিতে জ্বালানির সাশ্রয় সম্ভব এবং যানজট নিরসনেও সহায়ক হবে। এছাড়াও সকল অফিস আদালতে এসির ব্যবহার বন্ধ হলে গরমে মানুষের কিছুটা অসস্তি বাড়লেও বিদ্যুৎ সাশ্র‍য় হবে অনেক বেশি। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সচল রাখার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্ষতিকর প্রভাব এড়ানো যাবে বলে আশা করা যায়।

আজমিরা মীরা 

শিক্ষার্থী,আইন বিভাগ 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

সংকটের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা হিসেবে চমৎকার

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের “হাইব্রিড” শিক্ষা মডেলটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত। আমি করি, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে কেবল “ছুটি” অথবা “অবরোধ” হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বরং এটি পরিবেশ ও আধুনিক দক্ষতা উন্নয়নের এক দারুণ মেলবন্ধন হিসেবে চিন্তা করা যেতে পারে। সপ্তাহে তিন দিন বড় শহরগুলোর শিক্ষা সংশ্লিষ্ট যানবাহন বন্ধ থাকলে বাস, সিএনজি বা ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় বিশাল ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, এমনকি তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকাকালীন লাইট, ফ্যান, এসি এবং ল্যাবরেটরির যান্ত্রিক সরঞ্জাম বন্ধ থাকবে, যা জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাবে। পাশাপাশি, বাধ্যতামূলক এই অনলাইন ক্লাসের চর্চা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও ডিজিটাল সক্ষমতাকে আরও শাণিত করবে, যা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের এক ধাপ এগিয়ে রাখবে। মূলত পরিবেশ রক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর আগামীর প্রস্তুতি; উভয় দিক থেকেই এই পরিকল্পনাটি অত্যন্ত দূরদর্শী মনে হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবেও চিন্তা ভাবনা করলে, আমরা বৈশ্বিক উদাহরণ পাবো, যেমন ফিলিপাইন, ২০২৪ সালে তীব্র তাপপ্রবাহে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হাজার হাজার স্কুলে সরাসরি ক্লাস বন্ধ রেখে অনলাইন মডেল গ্রহণ করে, যা জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা রাখে এবং জ্বালানি সংকটে রোমানিয়া নির্দিষ্ট দিনে অনলাইন ক্লাস ও স্কুলের সময় কমিয়ে দিয়ে ভবনের “হিটিং সিস্টেম” বন্ধ রাখে, যা বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস সাশ্রয়ে সহায়তা করে।মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তটি "সংকটের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা" হিসেবে চমৎকার। তবে এটি যেন দীর্ঘমেয়াদী অভ্যাসে পরিণত না হয়। কারণ, শ্রেণিকক্ষের প্রাণবন্ত আড্ডা আর শিক্ষকের সরাসরি সান্নিধ্য ছাড়া শিক্ষা পূর্ণতা পায় না।

মোঃ ইমন হোসেন 

শিক্ষার্থী,আইন বিভাগ ।

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

যৌক্তিক সমাধান নয় বরং দায়সারা নীতি

দেশে কোনো সংকট এলেই সবার আগে শিক্ষা খাতের ওপর প্রভাব ফেলা একটি পুরনো প্রবণতা। বাস্তবতা হলো, শিল্প বা পরিবহন খাতের তুলনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি ব্যবহার বেশ সীমিত। ফলে শুধু এই খাতকে সংকুচিত করে বড় মাত্রায় জ্বালানি সাশ্রয় বা সামষ্টিক অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব ফেলার সুযোগ নেই।

অধিকন্তু, এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট বৈষম্য রয়েছে। স্কুল-কলেজগুলো হাইব্রিড মডেলে চলতে বাধ্য হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই নীতি সেভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। এর বদলে নীতিনির্ধারকরা আরও কার্যকর ও সমন্বিত বিকল্প ভাবতে পারতেন। যেমন, পুরো দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এক ছাঁচে না ফেলে বিকেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। রাজধানী ঢাকার তীব্র যানজট আর খুলনার মতো শহরের চিত্র এক নয়, তাই যানজটপ্রবণ এলাকায় হাইব্রিড মডেল রেখে অন্য জায়গায় স্বাভাবিক ক্লাস চালু রাখা যেত। পাশাপাশি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি-বেসরকারি অফিসে সাময়িকভাবে এসি ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ, যানজট এড়াতে ক্লাসের সময়সূচি শিফট ভিত্তিতে ভাগ করা এবং আংশিক ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা অনেক বেশি যৌক্তিক হতো। পরিশেষে, সংকট মোকাবেলায় শুধু শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে দায় না চাপিয়ে, শিক্ষার মান ও ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রেখে আরও লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

সৈকত সাদি

শিক্ষার্থী,আইন বিভাগ 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

সমস্যা সমাধানের নামে বৈষম্য

করোনা মহামারীর ধকল সামলাতে অনলাইন ক্লাসের প্রচলন এবং এর নেতিবাচক বাস্তবতা সম্পর্কে আমরা কমবেশি সবাই অবগত।বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে, যেখানে সবার অনলাইন ক্লাসের সুবিধা গ্রহণের সক্ষমতা নেই, সেখানে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতামতের তোয়াক্কা না করে এমন একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নিম্নবিত্ত ও অসচ্ছল পরিবারগুলোর জন্য চরম হতাশাজনক। এই সিদ্ধান্তে ঢাকা মহানগরীর সচ্ছল পরিবারের সন্তানরা ডিজিটাল সুবিধা পেলেও, গ্রামগঞ্জের প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। শিক্ষার আঙিনায় সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকার কি সব শিক্ষার্থীর জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ ও প্রয়োজনীয় ডিভাইস নিশ্চিত করতে সক্ষম? বিশেষ করে কড়াইল বস্তি বা জেনেভা ক্যাম্পের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের কাছে প্রযুক্তির এই সুবিধা এখনো কল্পনাতীত।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সরকারের কর্তব্য হলো শিক্ষাক্ষেত্রে আপস না করে বিকল্প পথগুলো দ্রুত খুঁজে বের করা। সরকার প্রয়োজনে ব্যক্তিগত যানবাহনের পরিবর্তে গণপরিবহন বা বাসে চলাচলের বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। সরকারের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত জ্বালানি তেলের বিকল্প উৎস খোঁজা এবং আপৎকালীন জ্বালানি কৌশলপত্র নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া। 

 এক শ্রেণির শিক্ষার্থীর সচ্ছলতার কথা ভেবে অন্যদের সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করা চরম বৈষম্যের শামিল। একটি জাতির মেরুদণ্ড হলো শিক্ষা। শিক্ষাক্ষেত্র নিয়ে এমন অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা অকল্যাণ বয়ে আনবে, যা দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাই সরকারের উচিত এই সিদ্ধান্তটি জনস্বার্থে পুনর্বিবেচনা করা।

খন্দকার রামীম হাসান পায়েল

আইন বিভাগ 

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় 

 

এই সিদ্ধান্ত বৈজ্ঞানিকভাবেও ত্রুটিপূর্ণ

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের সাপ্তাহিক তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্তকে আমি নীতিগতভাবে সমর্থন করি না। আমার কাছে এই সিদ্ধান্ত বৈজ্ঞানিকভাবেও ত্রুটিপূর্ণ বলে মনে হয়।

করোনা মহামারী ও সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের প্রভাবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের আবারও স্বাভাবিক একাডেমিক ধারায় ফিরিয়ে আনা জরুরি। কিন্তু তার পরিবর্তে পুনরায় অনলাইন ক্লাসে ঝুঁকে পড়া কোনো কার্যকর সমাধান নয়। বরং এটি শিক্ষার গুণগত মানকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।অনলাইন শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সমান সুযোগের অভাব। এখনো দেশের সব শিক্ষার্থীর কাছে প্রয়োজনীয় ডিভাইস, স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ এবং উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি। ফলে অনেক শিক্ষার্থী এই ব্যবস্থায় অংশ নিতে পারবে না বা পিছিয়ে পড়বে, যা বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দেবে।জ্বালানি সাশ্রয়ের যুক্তিটিও বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ নয়। একটি শ্রেণিকক্ষে ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য যেখানে সীমিত সংখ্যক পাখা ও এসি চালালেই প্রয়োজন মিটে যায়, সেখানে অনলাইন ক্লাসের কারণে প্রত্যেক শিক্ষার্থী আলাদাভাবে বাসায় পাখা, এসি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করবে। এতে মোট বিদ্যুৎ খরচ কমার বদলে অনেক ক্ষেত্রে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।সব দিক বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান ছাড়া এমন উদ্যোগ শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সংকটে ফেলতে পারে।

মোঃ তুহিন বাদশাহ

আইন বিভাগ 

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় 

 

এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্ত 

অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থার নানান ত্রুটি রয়েছে।জুম বা গুগল মিটে শিক্ষক যখন গুরুত্বপূর্ণ কোনো অঙ্ক বোঝাচ্ছেন, ঠিক তখনই স্ক্রিন অন্ধকার—"কারেন্ট চলে গেছে"।এর পাশাপাশি রয়েছে ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য। সবার বাসায় ওয়াইফাই বা আইপিএস (IPS) নেই। মোবাইল ডেটা কিনে দিনের পর দিন ক্লাস করা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য রীতিমতো 'মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা'। পরিবারের একমাত্র স্মার্টফোনটি নিয়ে দুই-তিন ভাইবোন কীভাবে রুটিন ভাগ করে ক্লাস করবে, সেই উত্তর এই নীতিমালায় নেই। জ্বালানি বাঁচাতে গিয়ে আমরা আসলে এক বিশাল ডিজিটাল বৈষম্য তৈরি করছি। জ্বালানি সংকট একটি রূঢ় বাস্তবতা। এটি মোকাবেলায় আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে পশ্চিমা ধাঁচের 'অনলাইন ক্লাসের' মডেল আমাদের দেশের সব স্তরে কার্যকর নয়। ঢাকার চশমা দিয়ে পুরো বাংলাদেশকে বিচার না করে, আমাদের উচিত এমন একটি বিকেন্দ্রীকৃত পলিসি গ্রহণ করা যা শহরের জ্বালানিও বাঁচাবে, আবার গ্রামের সাধারণ শিক্ষার্থীর পড়াশোনার অধিকারও কেড়ে নেবে না।

শিমলা পাল

শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ 

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

Link copied!