প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১০ পিএম
গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মশা ও মাছির উপদ্রবও বেড়ে যায়। ঘরের ভেতরেও এই সমস্যার কারণে স্বস্তিতে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকেই তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে রাসায়নিক স্প্রে বা কয়েল ব্যবহার করলেও, দীর্ঘমেয়াদে এসব উপাদান স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে—বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্তদের জন্য।
এই পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে কিছু নির্দিষ্ট গাছ ঘরে রাখা হতে পারে কার্যকর ও নিরাপদ সমাধান। এসব গাছ শুধু পোকামাকড় দূরে রাখে না, বরং ঘরের পরিবেশকেও সতেজ ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
তুলসি গাছ মশা প্রতিরোধে অন্যতম কার্যকর উদ্ভিদ। এতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান মশা দূরে রাখতে সহায়ক। জানালা বা দরজার পাশে তুলসি রাখলে এর সুফল বেশি পাওয়া যায়। পাশাপাশি এটি ঔষধি গুণেও সমৃদ্ধ।
লেমনগ্রাস গাছেও রয়েছে সিট্রোনেলা তেল, যা মশা প্রতিরোধে পরিচিত একটি উপাদান। ঘরের কোণ বা বারান্দায় রাখলে এর সুগন্ধ মশাকে দূরে রাখে। সহজ পরিচর্যায় এই গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে।
পুদিনা গাছের মেন্থলযুক্ত গন্ধ মশা ও মাছির জন্য বিরক্তিকর। ছোট টবে পুদিনা লাগিয়ে জানালার পাশে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এটি রান্না ও পানীয়তেও ব্যবহারযোগ্য।
ল্যাভেন্ডার গাছ তার মনোরম সুগন্ধের জন্য জনপ্রিয় হলেও মশার জন্য তা অপছন্দনীয়। ঘরের জানালার পাশে বা বারান্দায় রাখলে মশা কম আসে। পাশাপাশি এটি মানসিক প্রশান্তি ও ভালো ঘুমে সহায়তা করে।
গাঁদা ফুলে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান পোকামাকড় দূরে রাখতে কার্যকর। দরজা বা জানালার ধারে এই গাছ রাখলে মশা-মাছির প্রবেশ কমে যায়। এটি ঘরের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করে।
রোজমেরি গাছেও রয়েছে এমন কিছু উপাদান, যা মশা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। ঘরে বা বাগানে সহজেই এটি লাগানো যায়। প্রয়োজনে এর ডাল ব্যবহার করেও মশা দূরে রাখা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব গাছ পর্যাপ্ত আলো-বাতাসযুক্ত স্থানে রাখলে এবং নিয়মিত যত্ন নিলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। জানালা, দরজা বা বারান্দার পাশে গাছ রাখলে মশা প্রবেশ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
রাসায়নিকের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব এই পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যসম্মত সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
