প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে জাতীয় সংসদে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল ২০২৬) সংসদে কণ্ঠভোটে বিল দুটি অনুমোদন পায়, যার মাধ্যমে পূর্বে জারি করা অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপ পেল।
সংসদে পাস হওয়া বিল দুটি হলো ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল’ এবং ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশন ও স্বশাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল’। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী বিল দুটি উত্থাপন করেন এবং কোনো সংশোধনী প্রস্তাব ছাড়াই স্বল্প সময়ের মধ্যে তা পাস হয়।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে এ দুটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করে, যেখানে উক্ত দুটি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিতভাবে অনুমোদনের প্রস্তাব করা হয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ–সংবলিত বিবৃতিতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকারি চাকরিতে চাকরিপ্রার্থীদের প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি এবং বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ২০২৪’–এ সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের বয়সসীমা দুই বছর বাড়িয়ে ৩২ বছর করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “কিন্তু কিছু নিয়োগবিধিতে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৩-৪৫ নির্ধারিত আছে। এতে নিয়োগে জটিলতা তৈরি হয়। জটিলতা নিরসনে ২০২৫ সালে অধ্যাদেশটি অধিকতর সংশোধন করা হয়।”
নতুন আইনের অধীনে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) সহ সব ধরনের ক্যাডার ও নন-ক্যাডার সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারিত হবে। একইসঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থার সরাসরি নিয়োগেও এ সীমা কার্যকর হবে।
সংসদে বিল উত্থাপনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আলোচনা চাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো বিতর্ক ছাড়াই বিল দুটি পাস হয়। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অধ্যাদেশগুলোর ওপর বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, “প্রতিটি অধ্যাদেশ সংসদে তোলা হবে। সেখানে আলোচনার সুযোগ থাকবে। আজ (রোববার) যে দুটি বিল আনা হয়েছে, সে দুটির বিষয়ে বিশেষ কমিটি নিঃশর্তভাবে পাস করার বিষয়ে সর্বসম্মত হয়েছিল।”
এছাড়া ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল-২০২৬’-এর মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ নির্দেশ অমান্য করা, সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া কিংবা কর্মস্থলে অযৌক্তিক অনুপস্থিতিকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
এসব অপরাধের জন্য নিম্নপদে অবনমন, বাধ্যতামূলক অবসর অথবা চাকরিচ্যুতির মতো শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এ আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ও সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে।
