প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৯ এএম
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের গুচ্ছভুক্ত (GST) স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের (মানবিক) ভর্তি পরীক্ষা সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হলেও ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ কেন্দ্রে মোট ২ হাজার ২০৫ জন ভর্তিচ্ছুর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ হাজার ৮৮৮ জন, যা উপস্থিতির হার ৮৫.৬২ শতাংশ।
পরীক্ষা উপলক্ষে সকাল থেকেই জামালপুর, শেরপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। যাতায়াত সুবিধা ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ কেন্দ্রটি ভর্তিচ্ছুদের কাছে পছন্দের তালিকায় ছিল।
তবে পরীক্ষার সার্বিক আয়োজন সন্তোষজনক হলেও স্বেচ্ছাসেবকদের শনাক্তকরণে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠে। গত বছর স্বেচ্ছাসেবকদের আলাদা পরিচয়পত্র থাকলেও এবার সেই ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে পার্থক্য করতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের। অনেক স্বেচ্ছাসেবকের গলায় নির্ধারিত পরিচয়পত্রও দেখা যায়নি।
এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। গতবার ইলেকট্রনিক ডিভাইস শনাক্তে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করা হলেও এবার তা অনুপস্থিত ছিল। একই সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রে ব্যাগ নিয়ে প্রবেশের বিষয়টিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অভিভাবকদের জন্য ছাউনির ব্যবস্থা থাকলেও তীব্র গরমে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বসার স্থানে পাখার অভাব এবং সুপেয় পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক বলেন,"পরীক্ষার আয়োজন বেশ ভালো হয়েছে৷ গরমের জন্য ছাউনির ব্যবস্থা করেছে এটিও ভালো লেগেছে৷ দূর-দূরান্ত থেকে আগত নারী অভিভাবকদের জন্য কোনো মানসম্মত শৌচাগার কিংবা সুপেয় পানির সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ক্যাম্পাসের ক্যান্টিন বন্ধ না থাকলে খাবার ও পানি ক্রয়ে সুবিধা হত আমাদের৷"
পরীক্ষা চলাকালীন সময় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন এবং প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন,"গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার পজিটিভনেসটা আমাদের জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। গার্ডিয়ানদের কষ্টগুলো লাঘবের জন্য দেশব্যাপী ২০টা বিশ্ববিদ্যালয় একই সঙ্গে অংশগ্রহণ করছে। আর্থিক সাশ্রয় যেমন হয়েছে, সময়ের সাশ্রয় হয়েছে। মানুষের অসুবিধা লাঘব হয়েছে। অতএব আমি এটা ক্লিয়ারলি বলতে চাই, আমাদের জিএসটির প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হওয়া দরকার। এবং যদি আরও কোন বিশ্ববিদ্যালয়, ছোট, তারা যদি আমাদের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে জিএসটিতে আসতে চায়, তাহলে আমরা মনে হয় এখানে স্বাগত জানানো উচিত হবে৷"
সুন্দরভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
