প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০২ এএম
একই বিষয়ে বারবার অকৃতকার্য হওয়া এবং দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের মধ্যে থাকা এক মেডিকেল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। কুমিল্লার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের এই মৃত্যুকে ঘিরে সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হোস্টেলের নিজ কক্ষ থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। সহপাঠীদের দাবি, মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে তিনি বিপুল পরিমাণ ওষুধ সেবন করেছিলেন।
জানা যায়, ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী নওশিন প্রথম বর্ষ থেকেই একটি বিষয়ে জটিলতার মধ্যে পড়েন। প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় অন্যান্য বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও এনাটমি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। পরবর্তী তিন বছরে আরও চারবার পরীক্ষা দিলেও তিনি উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
সহপাঠীদের অভিযোগ, প্রথম বর্ষ থেকেই বিভাগের এক শিক্ষকের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং সেই থেকেই তিনি ধারাবাহিকভাবে চাপে ছিলেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, নওশিনের পরিবারের সদস্যরাও ঘটনার জন্য মানসিক চাপকে দায়ী করেছেন। তার ভাই শাহরিয়ার আরমান বলেন,“আমার বোনের এরকম কোনো মানসিকতা নাই যে সে আত্মহত্যা করবে। মূলত কলেজের মানসিক চাপ থেকে এটা করেছে। নওশিন বারবার এনাটমি বিভাগের মনিরা ম্যাডামের কথা বলত। একদম ফার্স্ট ইয়ার থেকে আমার বোনকে মানসিক নিপীড়ন করেছেন তিনি। সবাইকে পাস করে দেয়, আমার বোন প্রত্যেকটা সাবজেক্ট পাস করে, কিন্তু ওই একটা সাবজেক্টে আটকে রাখে। আমি বলেছি যে আমার বোনের সমস্যা কোথায় বলেন, তাও বলবে না। প্রেসার দিতে দিতে আমার বোনকে মেন্টালি নিপীড়ন যারা করেছে, তারাই এই মার্ডার করেছে।”
তিনি আরও বলেন,“গতকালও ওর সাথে আমি কথা বলেছি। ফর্ম ফিলআপের জন্য টাকা নিয়েছে। আমাকে বলল যে ভাই আমি তো বাড়িতে বলতে পারছি না, আব্বুর ভয়ে, এখন তুই একটু ম্যানেজ কর। আমি বললাম, ঠিক আছে, তুই তোর বন্ধুর সাথে ফর্ম ফিলআপটা কর, আমি টাকা পাঠাচ্ছি। আর আজকে এরকম খবর পাব কোনোদিন কল্পনা করিনি।”
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, নওশিন খুলনার বাসিন্দা ছিলেন। এসএসসি ও এইচএসসি শেষে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মেডিকেলে ভর্তি হলেও সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই তার জীবনের ইতি ঘটে।
