রবিবার ১৭, মে ২০২৬

রবিবার ১৭, মে ২০২৬ -- : -- --

বমি হলে কখন রোজা ভাঙবে,কখন ভাঙবে না

সায়ফুল হক সিরাজী

প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৮ এএম

ফাইল ফটো।

রোজা অবস্থায় বমি হলে তা রোজা ভেঙে দেয় কি না এ নিয়ে অনেকের মাঝে বিভ্রান্তি দেখা যায়। ইসলামি শরিয়তের বিভিন্ন মাজহাবের ফিকহ অনুযায়ী এ বিষয়ে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে, তবে মূল নীতিগুলো প্রায় একই।

ইচ্ছাকৃত বমি করলে রোজা ভাঙে

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে, তাহলে রোজা ভেঙে যায়। হানাফি মাজহাবে এ ক্ষেত্রে “মুখ ভরে বমি” হওয়া শর্ত হিসেবে বিবেচিত হলেও শাফেয়ী, মালিকি ও হাম্বলি মাজহাবে অল্প বা বেশি-যেকোনো ইচ্ছাকৃত বমিতেই রোজা ভেঙে যায়।

অনিচ্ছাকৃত বমিতে রোজা ভাঙে না

অন্যদিকে, হঠাৎ বা অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হলে রোজা ভাঙে না—এ বিষয়ে সব মাজহাব একমত। তবে যদি সেই বমি ইচ্ছাকৃতভাবে আবার গিলে ফেলা হয়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে।

মাজহাবভেদে পার্থক্য

হানাফি মাজহাব: মুখ ভরে ইচ্ছাকৃত বমি হলে রোজা ভাঙে
শাফেয়ী মাজহাব: ইচ্ছাকৃত বমি হলেই রোজা ভাঙে
মালিকি ও হাম্বলি মাজহাব: একইভাবে ইচ্ছাকৃত বমিতে রোজা ভেঙে যায়

রোজা ভাঙার অন্যান্য কারণ

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী আরও কিছু কাজ রোজা ভঙ্গের কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়, যেমন:

* ইচ্ছাকৃতভাবে খাওয়া বা পান করা
* দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন
* ধূমপান করা
* ইচ্ছাকৃতভাবে ওষুধ গ্রহণ

করণীয়

যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হয়ে যায়, তাহলে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে রোজা চালিয়ে যেতে হবে। তবে ইচ্ছাকৃত বমির ক্ষেত্রে পরে কাজা রোজা আদায় করতে হবে।

সার্বিকভাবে, ইচ্ছাকৃত কাজই রোজা ভঙ্গের মূল কারণ-এমনটাই জানিয়েছেন ইসলামি ফিকহ বিশেষজ্ঞরা। তাই রোজা অবস্থায় সচেতন থাকা এবং শরীরের অবস্থা অনুযায়ী সতর্ক থাকা জরুরি।

হাদিস
হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তির অনিচ্ছাকৃত বমি হলো, তার কাজা করতে হবে না,কিন্তু যে ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করল, সে যেন কাজা করে।" (তিরমিযি: ৭২০, আবু দাউদ)

(ধর্মীয় বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের জন্য স্থানীয় আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়া উত্তম)

Link copied!