প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
মহান আল্লাহ তাআলা দিন ও রাত সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এই দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়।
হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো-এই দিনে হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাকে জমিনে অবতরণ করানো হয়েছে, একই দিনে তার ইন্তেকাল হয়েছে, এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে যখন বান্দার দোয়া কবুল করা হয় (যদি হারাম কিছু না চাওয়া হয়), এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৮৯৫)।
জুমার দিনটি যেমন ফজিলতপূর্ণ, তেমনি এই দিনে কিছু কাজ থেকে বিরত থাকারও নির্দেশনা রয়েছে। অথচ আমাদের সমাজে এসব নিষিদ্ধ কাজের অনেকগুলোই প্রচলিত রয়েছে।
জুমার দিনের নিষিদ্ধ কাজসমূহ
১. আজানের পর ব্যবসা-বাণিজ্য করা
জুমার আজান হওয়ার পর দুনিয়াবি সব কাজ, বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে নামাজের জন্য প্রস্তুত হওয়া ফরজ। আল্লাহ তাআলা বলেন,
“হে মুমিনরা! যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ব্যবসা ছেড়ে দাও।” (সুরা জুমুআ: ৯)
এখানে ব্যবসা বলতে সব ধরনের ব্যস্ততাকেই বোঝানো হয়েছে।
২. খুতবার সময় মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনে যাওয়া
খুতবা চলাকালে অন্যদের কষ্ট দিয়ে সামনে অগ্রসর হওয়া নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) একজন ব্যক্তিকে বসে যেতে নির্দেশ দেন এবং বলেন, “তুমি লোকদের কষ্ট দিচ্ছ।” (আবু দাউদ, হাদিস: ১১১৮)
৩. খুতবার সময় ‘ইহতেবা’ ভঙ্গিতে বসা
দুই হাঁটু উঁচু করে কাপড় জড়িয়ে বসাকে ‘ইহতেবা’ বলা হয়। খুতবার সময় এভাবে বসতে নিষেধ করা হয়েছে (আবু দাউদ, হাদিস: ১১১০)।
৪. খুতবার সময় কথা বলা বা অমনোযোগী হওয়া
খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় কথা বলা, মোবাইল ব্যবহার করা বা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকা অনুচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ইমাম খুতবা দিচ্ছেন-এ সময় কাউকে ‘চুপ থাকো’ বললেও তা অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য হবে।” (বুখারি, হাদিস: ৯৩৪)
৫. খুতবার সময় ঘুমানো
খুতবার সময় তন্দ্রাচ্ছন্ন হওয়া অনুচিত। কেউ ঘুম পেলে স্থান পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে, যাতে মনোযোগ ফিরে আসে (আবু দাউদ, হাদিস: ১১১৯)।
৬. শুধু জুমার দিন রোজা রাখা
শুধুমাত্র জুমার দিনকে নির্দিষ্ট করে রোজা রাখা নিষেধ। তবে এর আগে বা পরে একদিন মিলিয়ে রোজা রাখা জায়েজ (বুখারি, হাদিস: ১৯৮৫)।
