প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
রমজান মাস মুসলমানদের জন্য ইবাদত, আত্মশুদ্ধি এবং গুনাহ মাফের বিশেষ সময়। এই মাসে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য রহমত ও ক্ষমার দরজা উন্মুক্ত করে দেন। প্রতিটি রোজা, তারাবিহ, সাহরি ও ইফতারের মাধ্যমে যেমন সওয়াব অর্জিত হয়, তেমনি অতীতের অনেক গুনাহও ক্ষমা হয়ে যায়। তবে রমজানের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হয় শেষ দশ দিন।
ইসলামের নবী Muhammad (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইবাদত-বন্দেগিতে বিশেষ মনোযোগ দিতেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, তিনি এই সময় অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি আমল করতেন। তাঁর স্ত্রী Aisha (রা.) বর্ণনা করেন, রমজানের শেষ দশকে রাসুল (সা.) এমনভাবে ইবাদত করতেন, যা বছরের অন্য সময়গুলোতে দেখা যেত না।
এই সময় তিনি রাত জেগে আল্লাহর ইবাদত করতেন এবং নিজের পরিবারকেও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে তুলতেন। হাদিসে বলা হয়েছে, শেষ দশক শুরু হলে তিনি যেন নতুন উদ্যমে ইবাদতে নিমগ্ন হতেন। এর মাধ্যমে তিনি মুসলমানদের জন্য একটি অনন্য উদাহরণ রেখে গেছেন, যাতে সবাই এই সময়টিকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে পারে।
রমজানের শেষ দশকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ইতিকাফ। নবীজি (সা.) নিয়মিত এই সময় মসজিদে অবস্থান করে ইতিকাফ করতেন। এমনকি তাঁর মৃত্যুর বছর তিনি স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও বেশি দিন ইতিকাফ করেছিলেন। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর স্ত্রীগণও এই সুন্নত অনুসরণ করেন।
এই দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাত হলো Laylat al-Qadr বা শবে কদর। কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী, এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। নবীজি (সা.) মুসলমানদের নির্দেশ দিয়েছেন রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে এই মহিমান্বিত রাতের সন্ধান করতে।
এ সময় তিনি বেশি বেশি দোয়া ও তওবা করতেন। বিশেষ করে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া শিখিয়েছেন—“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি”, যার অর্থ, হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।
রমজানের শেষ দশকে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। নবীজি (সা.)-এর যুগে সাহাবিরা ঈদের নামাজের আগেই এটি আদায় করতেন, যাতে দরিদ্র মানুষও ঈদের আনন্দে অংশ নিতে পারে।
মুসলমানদের উচিত এই বরকতময় সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানো এবং নবীজির দেখানো আমলগুলো অনুসরণ করা, যাতে তারা রমজানের প্রকৃত ফজিলত অর্জন করতে পারে।
