প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৯ এএম
ইসলামে শুক্রবার বা জুমার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দিনটি শুধু জামায়াতে নামাজ আদায়ের জন্য নয়, বরং বিশেষ কিছু আমল ও দোয়া কবুলের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে-এই দিনে এমন একটি “গোপন সময়” রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই কবুল করেন।
হাদিসে এসেছে,“শুক্রবারে একটি সময় আছে, যদি কোনো মুসলমান সেই সময়ে দোয়া করে, আল্লাহ তা কবুল করেন।” অন্য একটি হাদিসে আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,
“শুক্রবারে ১২টি সময়ের মধ্যে একটি সময় রয়েছে… তাই তোমরা আসরের পর শেষ সময়ে তা অনুসন্ধান করো।
জুমার দিনে দোয়া কবুলের সময় সম্পর্কে হাদীসসমূহ
১. সহিহ বুখারী ও মুসলিম
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন,“শুক্রবারে এমন একটি সময় আছে, যদি কোনো মুসলমান সে সময় নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ তা অবশ্যই তাকে দান করেন।”— (সহিহ বুখারী: ৯৩৫, সহিহ মুসলিম: ৮৫২)
২. সময়টি খুব সংক্ষিপ্ত-ইশারা করে বোঝানো
একই হাদীসের আরেক বর্ণনায় এসেছে,“তিনি (রাসূল ﷺ) তার হাত দিয়ে ইশারা করে দেখালেন যে সময়টি খুবই অল্প।”- (সহিহ বুখারী)
অর্থাৎ, সময়টি ছোট হলেও অত্যন্ত মূল্যবান।
৩. আসরের পর সময়ের দিকে ইঙ্গিত
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) থেকে বর্ণিত,“আমি জানি সে সময়টি কখন-এটি শুক্রবারের শেষ সময়, আসরের পর।”- (সুনানে নাসাঈ: ১৩৮৯)
৪. আসরের পর দোয়া করার নির্দেশ
রাসূল ﷺ বলেছেন,“শুক্রবারে ১২টি সময় রয়েছে… তোমরা তা আসরের পর শেষ সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান করো।” (সুনানে নাসাঈ)
৫. খুতবার সময় সম্পর্কিত মত
হযরত আবু মূসা আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত,“এ সময়টি হলো-ইমাম যখন মিম্বারে বসেন, থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত।” (সহিহ মুসলিম)
দোয়া কবুলের সম্ভাব্য সময়-দুটি মতামত
ইসলামী স্কলারদের মতে, এই বিশেষ সময় নিয়ে প্রধানত দুইটি মত রয়েছে:
১. খুতবার সময় থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত
যখন ইমাম মিম্বারে বসেন এবং জুমার নামাজ শেষ হয়-এই সময়কে অনেক আলেম দোয়া কবুলের সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ()
২. আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত (সবচেয়ে শক্তিশালী মত)
অধিকাংশ আলেমের মতে, আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়টিই দোয়া কবুলের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সময়। ()
কেন আসরের পর সময়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
বিভিন্ন সহিহ হাদিসে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, দিনের শেষ অংশ-বিশেষ করে আসরের পরের সময়-আল্লাহর রহমত ও কবুলের জন্য অধিক অনুকূল।
বিশেষজ্ঞদের মতে,
- এ সময় মানুষ অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি থাকে
- মনোযোগ দিয়ে দোয়া করা সহজ হয়
- দিনের শেষ মুহূর্ত হওয়ায় আল্লাহর রহমতের বিশেষ সময় হিসেবে বিবেচিত
এ কারণে অনেক ইসলামি গবেষক এই সময়টিকে “সাআতুল ইজাবাহ” (দোয়া কবুলের মুহূর্ত) হিসেবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ()
কীভাবে দোয়া করলে বেশি কবুল হয়?
এই সময় দোয়া করার ক্ষেত্রে কিছু আমল বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়:
- বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা
- আন্তরিকভাবে ও বিনয়ের সাথে দোয়া করা
- গুনাহ থেকে তওবা করা
- কিবলামুখী হয়ে হাত তুলে দোয়া করা
- একান্ত নির্জনে আল্লাহর কাছে চাওয়া
সারাদিনই আমল করুন
যদিও নির্দিষ্ট সময় রয়েছে, তবুও পুরো শুক্রবারই দোয়া, ইবাদত ও নেক আমলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, হাদিসে এসেছে-এই দিনটি বরকতময় এবং আল্লাহ বিশেষ রহমত নাজিল করেন।
শুক্রবারের “গোপন দোয়া কবুলের সময়” কোনো নির্দিষ্ট মিনিট বা ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু মূল্যবান সময়। তাই মুসলমানদের উচিত—বিশেষ করে আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়টিতে বেশি বেশি দোয়া করা এবং পুরো দিনটিকেই ইবাদতে কাটানোর চেষ্টা করা।
এই একটিমাত্র সময় আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে-তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি নিন।
