রবিবার ১৭, মে ২০২৬

রবিবার ১৭, মে ২০২৬ -- : -- --

৮০ বছর ধরে এক ছাদের নিচে ৫১ সদস্যের রুদ্রপালের পরিবার

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ০৮:১১ এএম

ছবি।ক্যাম্পাস রিপোর্ট

রাজন হোসেন,মৌলভীবাজার।

যেখানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ভাই-ভাই আলাদা হয়ে যাচ্ছে, সেখানে একতার অনন্য নজির গড়েছে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বিনন্দপুর গ্রামের রুদ্রপাল পরিবার। ৫১ সদস্যের এই একান্নবর্তী পরিবার প্রায় ৮০ বছর ধরে এক ছাদের নিচে, এক হাঁড়িতে রান্না খেয়ে বসবাস করছে।  

৯ ভাই, ১২ জা ও তাদের সন্তানদের নিয়ে গড়া এই পরিবারের গল্প এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।  

  
প্রতিদিনের তিন বেলার রান্না সামলান বাড়ির ১২ জন গৃহবধূ। তারা চারজন করে তিন দলে ভাগ হয়ে সকাল, দুপুর ও রাতের রান্নার দায়িত্ব পালন করেন। এক দল রান্নায় ব্যস্ত থাকলে অন্যরা ঘরের কাজ ও বাচ্চাদের দেখভাল করেন। রান্নার পাশাপাশি কাপড় সেলাই, ধোয়া—সব কাজই হয় সুষম বণ্টনে।  

এক পুত্রবধূ বলেন, “১২ বছর আগে এ বাড়িতে এসে ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু এত আদর-ভালোবাসা পেয়েছি যে এখন এই বড় পরিবারই আমার কাছে স্বর্গ।”  


পরিবারের ১২ জন ভাইবোন একসাথে বেড়ে উঠছে। সকালে একসাথে নাস্তা করে স্কুলে যায়, বিকেলে উঠানে চলে ক্রিকেট-ব্যাডমিন্টনের আসর। যৌথ জীবনের এই আনন্দ তাদের মানসিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখছে।  

  
পরিবারের ১০ বিঘা জমি, মৎস্য খামার, ফল-বনজ বাগান থেকে খাবারের জোগান আসে। পাশাপাশি সদস্যরা শিক্ষকতা, ব্র্যাক, চিকিৎসা ও প্রবাসে কাজ করে আয় করেন। মাসশেষে সব আয় জমা হয় বড় ভাইয়ের কাছে। সেই তহবিল থেকেই চলে পড়াশোনা, চিকিৎসা ও সংসার খরচ। এই আর্থিক স্বচ্ছতাই তাদের বিরোধহীন থাকার মূল রহস্য।  


১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগে ভারত থেকে এসে জুড়ীর বিনন্দপুরে বসতি গড়েন ভীম রুদ্রপাল। আজও তার উত্তরসূরীরা সেই নীতি ধরে রেখেছেন—সমস্যা হলে সবাই বসে সমাধান করা, ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে সমষ্টিগত কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া।  

এই নীতিই বিনন্দপুরের রুদ্রপাল পরিবারকে আধুনিক যুগে এক জীবন্ত রূপকথা বানিয়েছে।

Link copied!