প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ০৮:১৭ এএম
অহিদুল ইসলাম অভি,রাঙামাটি
সড়ক নিরাপত্তা জোরদার, যানজট নিরসন এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে শুরু করেছে “ট্রাফিক সচেতনতা কর্মসূচি–২০২৬”। শনিবার বিকেলে -এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য । বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট । অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার । এছাড়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শহরের অটোরিকশাগুলোতে কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল স্টিকার লাগানো হয় এবং মোটরসাইকেল চালকদের মাঝে হেলমেট বিতরণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্যমন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। পর্যটননির্ভর জেলা হিসেবে রাঙামাটিতে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সময়ের দাবি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জেলা পুলিশের এমন উদ্যোগকে তিনি সময়োপযোগী আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার নাগরিক সেবাকে আরও সহজ ও কার্যকর করবে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির আওতায় শহরের সব সিএনজি ও থ্রি-হুইলারকে ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৪১৬টি যানবাহন এবং সহস্রাধিক চালকের তথ্য নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। নিবন্ধিত প্রতিটি যানবাহনে বিশেষ কিউআর কোড স্টিকার থাকবে, যা স্ক্যান করে যাত্রীরা চালকের পরিচয়, ছবি ও যোগাযোগের তথ্য জানতে পারবেন।
এছাড়া যাত্রীরা সেবার মান নিয়ে সরাসরি রেটিং ও মতামত দিতে পারবেন। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে দক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ চালকদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
অন্যদিকে, “অনলাইন বাস টার্মিনাল (OBT)” চালুর মাধ্যমে পর্যটকবাহী বাসের ডিজিটাল নিবন্ধন, পার্কিং ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীসেবা আরও সুসংগঠিত করা হবে। শহরে প্রবেশের আগেই বাসগুলোকে অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে এবং মোবাইল বার্তা বা ই-মেইলের মাধ্যমে নির্ধারিত পার্কিং নির্দেশনা জানিয়ে দেওয়া হবে।
জেলা পুলিশের দাবি, ইতোমধ্যেই ডিজিটাল পার্কিং ব্যবস্থার কারণে শহরে বাসের বিশৃঙ্খল পার্কিং কমেছে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাঙামাটিকে আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পর্যটকবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
