প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৪ এএম
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ৫৭নং রাউদগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র পানিসঙ্কট, নানাবিধ অবকাঠামোগত সমস্যা এবং সংস্কারকাজে চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে দুটি পানির ট্যাঙ্ক ও সাবমার্সিবল পাম্প থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে ভোগান্তিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। পানীয় জলের সুব্যবস্থা না থাকায় ও বিদ্যালয়ে দুইটি টয়লেট থাকলে ও ময়লা আবর্জনায় ভর্তি থাকায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে পাশের বাড়ির আরজু মিয়ার ঘরে গিয়ে পানি পান ও টয়লেট ব্যাবহার করছে।
এর পাশাপাশি, গতকাল ১১/১০/২০২৬ইং তারিখে রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ে ওয়াইফাই ও বিদ্যুৎ সংযোগের তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ে দপ্তরি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন চুরির ঘটনা ঘটলো, তা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের জমির অন্যতম দাতা পরিবারের সদস্য মো. আবু বক্কর সিদ্দিক মঞ্জু অভিযোগ করে জানান, প্রতি বছর বিদ্যালয়ের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারি বাজেট এলেও তা সঠিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের টয়লেট দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। গত প্রায় তিন বছর ধরে ছাদ পরিষ্কার না করায় সেখানে ময়লা-আবর্জনা ও গাছপালা জন্মে রয়েছে। এছাড়া পরিকল্পিত পদক্ষেপের অভাবে বর্ষা ও শুকনো—উভয় মৌসুমেই বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি কাদা-পানিতে সয়লাব হয়ে শিক্ষার্থীদের খেলার অনুপযোগী থাকে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় দাতা সদস্যদের অভিযোগ, দপ্তরী রাতে দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করছেন। তা ছাড়া তার চুরির ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক জামান স্থানীয় প্রতিনিধি, জমি দাতা কিংবা সহ পরিচালন কমিটির কাউকে না জানিয়ে গোপনে অন্য এলাকায় গিয়ে ভিন্নভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। প্রধান শিক্ষকের এমন মনগড়া আচরণে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক জামান ও দপ্তরি সাহাব উদ্দিন তালুকদারের উপস্থিতিতে স্থানীয়রা অবিলম্বে বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করা, টয়লেট ও ছাদ পরিষ্কার করা এবং খেলার মাঠ সংস্কারের জোরালো দাবি জানান।
অভিযোগ ও তার চুরির সার্বিক বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক জামানের বক্তব্য নিতে চাওয়া হলে তিনি বারবার বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং গণমাধ্যমে কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী জানান গতকাল রাতের বিদ্যুৎ সংযোগের তার চুরির বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে বাহুবল মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করতে বলা হয়, অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নুরুল হক জামান আমাকে অবগত করেন নাই,ওনি আরো জানান অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
