মঙ্গলবার ১৩, অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার ১৩, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

রুয়েটে কোডিং পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত,পাঁচ মাসেও নেই অগ্রগতি

মোঃ শোয়েব বিন জামান। রুয়েট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৪ এএম

ফাইল ফটো

পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ইউনিক কোডিং পদ্ধতি চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল পাঁচ মাস আগে। পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি বিভাগে এ পদ্ধতি চালুর কথা থাকলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ১২ দফা দাবির অন্যতম ছিল উত্তরপত্রে রোল নম্বরের পরিবর্তে কোড ব্যবহারের ব্যবস্থা চালু করা। পরে বিভিন্ন সময়ে এ দাবি নিয়ে আলোচনা ও আন্দোলন হয়। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি বিভাগে পরীক্ষামূলকভাবে কোডিং পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিভাগ তিনটি হলো কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট (বিইসিএম) এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই)।

প্রশাসনের পরিকল্পনা ছিল, এ তিন বিভাগে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে অন্য বর্ষ ও বিভাগেও পদ্ধতিটি চালু করা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায়ও কোডিং পদ্ধতি চালু হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রেও প্রাথমিক বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে পরীক্ষার উত্তরপত্রে কোডিং পদ্ধতি চালু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিকভাবে ছয়টি বিভাগে এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ইতিহাস ও ইংরেজি বিভাগে কোডিং পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়েছে। এ ছাড়া যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষায় এ পদ্ধতি চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পদ্ধতি চালুর অগ্রগতির মধ্যে রুয়েটে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের মতে, উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে দ্রুত কোডিং পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন।

কোডিং পদ্ধতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে রুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তৌহিদ আরিফ খান চৌধুরী বলেন, এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কমিটির চেয়ারম্যানকে দিয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ইতিমধ্যে কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে পরীক্ষামূলকভাবে পদ্ধতিটি চালুর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরও বলেন, আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ও নির্ধারিত ছক পাওয়া গেলে উত্তরপত্রের টপশিট প্রস্তুত, কোড দেওয়া ও কোড শনাক্তকরণ এবং ফলাফল প্রক্রিয়াকরণের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

এর আগে এ বিষয়ে রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, কোডিং পদ্ধতি বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কোথাও জটিলতা থাকলে ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে তা সমাধান করা হবে। পরীক্ষা ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় প্রশ্ন প্রণয়ন, পরিমার্জন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নে একাধিক শিক্ষক যুক্ত থাকেন। এ ছাড়া উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকায় কোনো শিক্ষার্থীর খাতা এককভাবে অবমূল্যায়নের সুযোগ অনেকাংশে সীমিত।

তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, বর্তমান মূল্যায়নব্যবস্থার পাশাপাশি উত্তরপত্রে পরিচয় গোপন রেখে কোডিং পদ্ধতি চালু করা হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থা বাড়বে এবং মূল্যায়নের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে দ্রুত আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি এবং সব বিভাগে এ পদ্ধতি চালুর সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Link copied!