প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
ভ্রমণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়-এই বিশ্বাস থেকেই দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাংলাদেশের ভ্রমণপ্রেমী মোহাম্মদ তাফহিমুর রহমান। ২০১২ সালে নেপাল ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক ভ্রমণের শুরু। এরপর গত ১৫ বছরে তিনি ৩১টি দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং মোট ভ্রমণের সংখ্যা শতাধিক। সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করেছেন ভারত ও মালয়েশিয়ায়।
তাঁর ভ্রমণ শুধু দেশের সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একই দেশে একাধিকবার ভ্রমণ করে সেখানকার মানুষ, সংস্কৃতি, জীবনযাপন ও বাস্তবতাকে কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করেছেন তিনি।
ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, কম খরচে বিদেশ ভ্রমণ, ভিসা-সংক্রান্ত বাস্তবতা, ইমিগ্রেশন জটিলতা এবং ভ্রমণ থেকে পাওয়া জীবনবোধ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন সায়ফুল হক সিরাজী। আলোচনার বিষয়গুলো পাঠকের জন্য ।
ভ্রমণের শুরুটা কীভাবে?
আমার আন্তর্জাতিক ভ্রমণের শুরু ২০১২ সালে নেপাল দিয়ে। সেটি ছিল আমার জীবনের প্রথম বিদেশ ভ্রমণ। সেই ভ্রমণে আমার সঙ্গে ছিলেন আমার প্রতিবেশী জনাব মোঃ ফজলুল করিম, জনাব মোঃ কামরুজ্জামান এবং আমার অফিসের সহকর্মী ইঞ্জিনিয়ার মোঃ কামরুজ্জামান মিন্টু।
চারজন মিলে নেপাল ভ্রমণের সেই প্রথম অভিজ্ঞতা আমার কাছে আজও বিশেষভাবে স্মরণীয়। তখন মূলত নতুন একটি দেশ দেখার আগ্রহ থেকেই যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই ভ্রমণের পর বুঝতে পারি, বিদেশ ভ্রমণ শুধু নতুন জায়গা দেখার বিষয় নয়; এটি নতুন মানুষ, নতুন সংস্কৃতি ও নতুন জীবনধারাকে জানারও একটি অসাধারণ সুযোগ। এরপর ধীরে ধীরে ভ্রমণ আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
এখন পর্যন্ত কতটি দেশে ভ্রমণ করেছেন?
আমি এখন পর্যন্ত ৩১টি দেশ ভ্রমণ করেছি তবে শুধু একবার করে নয়-এসব দেশের অনেকগুলোতেই একাধিকবার গিয়েছি। মোট আনুমানিক শতাধিকবার আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করেছি।
আমার ভ্রমণ করা দেশ ও গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেপাল, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, কাতার, মালদ্বীপ, ভুটান, চীন, ফিলিপাইন, জাপান, মালয়েশিয়া, লাওস, ব্রুনাই, ভিয়েতনাম, মিশর, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, হংকং, জার্মানি, পোল্যান্ড, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ইতালি, তুরস্ক, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব।
সবচেয়ে বেশি কোন দেশগুলোতে ভ্রমণ করেছেন?
ভারতে ৩২ বার ও মালয়েশিয়ায় ৮বার সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করেছি। দুটি দেশই আমার কাছে আলাদা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি হওয়া, যাতায়াতের সুবিধা, খরচ তুলনামূলক কম হওয়া এবং ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখার সুযোগ-এসব কারণে ভারতে অনেকবার গিয়েছি। মালয়েশিয়াও আমার পছন্দের একটি গন্তব্য এবং সেখানে ৮বার যাওয়ার সুযোগ হয়েছে।
একই দেশে একাধিকবার যাওয়ার কারণ কী?
আমার মনে হয়, একটি দেশকে একবার দেখে পুরোপুরি জানা সম্ভব নয়। প্রথমবার গেলে সাধারণত পর্যটনকেন্দ্রগুলো দেখা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার গেলে দেশটির স্বাভাবিক জীবনযাপন, স্থানীয় মানুষের আচরণ, খাবার, পরিবহন, সংস্কৃতি এবং পর্যটনের বাইরের বাস্তবতাগুলো দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।
একই দেশে বিভিন্ন সময়ে গেলে পরিবর্তনও চোখে পড়ে। তাই আমার কাছে বারবার ভ্রমণ মানে একই জায়গায় ফিরে যাওয়া নয়; বরং একই জায়গাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করা।
আপনার ভ্রমণের ধরন কেমন?
আমি মূলত পরিকল্পিত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী ভ্রমণ পছন্দ করি। অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতার পেছনে বেশি অর্থ ব্যয় করার চেয়ে সেই অর্থ দিয়ে আরও একটি জায়গা দেখা আমার কাছে বেশি মূল্যবান।
তবে বাজেট ভ্রমণ মানে অস্বস্তিকর বা অনিরাপদ ভ্রমণ নয়। আমার কাছে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, প্রয়োজনীয় আরাম এবং খরচ-এই চারটির মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে কম খরচে কোন দেশে ভ্রমণ করেছেন?
ভারতে। বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি হওয়ায় যোগাযোগ খরচ তুলনামূলক কম, অনেক জায়গায় থাকার ও খাবারের খরচও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যায়। পরিকল্পনা করে ভ্রমণ করলে ভারত বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য খুবই ব্যয়-সাশ্রয়ী একটি গন্তব্য হতে পারে।
ভ্রমণের সবচেয়ে স্মরণীয় বা মজার কোনো ঘটনা বলবেন?
অনেক ঘটনা আছে। তবে লন্ডনের একটি ঘটনা আমার বিশেষভাবে মনে আছে।
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে একবার আমি Airbnb-তে একটি সিঙ্গেল রুম ভাড়া নিয়ে উঠেছিলাম। বাড়িটি ছিল দুইতলা। ওপরের তলায় থাকার ব্যবস্থা এবং নিচতলায় ছিল বড় একটি কিচেন ও ড্রয়িং রুম।
আমি মুসলিম হওয়ায় হালাল খাবারের বিষয়টি সবসময় গুরুত্ব দিই। সেখানে নিজের জন্য নিচের কিচেনে খিচুড়ি ও ডিম ভাজি রান্না করছিলাম। তখন একই বাড়িতে ফ্রান্সের তিনজন তরুণী অতিথি হিসেবে ছিলেন।
তারা আমার রান্না দেখে বেশ আগ্রহী হয়ে বললেন, আমার রান্না তারা একটু খেতে চান এবং একই সঙ্গে তাদের খাবারও আমাকে খাওয়াতে চান। আমি তাদের অল্প পরিমাণে খিচুড়ি ও ডিম ভাজি খেতে দিলাম। তারা বেশ আনন্দের সঙ্গে খেলেন।
মজার ব্যাপার হলো, পরদিন তারা আমাকে সঙ্গে নিয়ে বাজারে গেলেন। খিচুড়ি ও ডিম ভাজি রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনলেন এবং আমার কাছ থেকেই রান্না করা শিখলেন।
একজন বাংলাদেশি ভ্রমণকারী হিসেবে বিদেশের মাটিতে নিজের দেশের একটি সাধারণ খাবারকে কেন্দ্র করে তিনজন ফরাসি তরুণীর সঙ্গে এমন বন্ধুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা আমার কাছে সত্যিই আনন্দের ছিল।
আরেকটি স্মরণীয় ঘটনা?
জাপানের রাজধানী টোকিওর একটি ঘটনা আমার খুব মনে আছে। আমি সেখানে Sakura Hostel-এ অবস্থান করছিলাম। একদিন হোস্টেলের লবিতে আমরা পাঁচজন বসে গল্প করছিলাম। ধীরে ধীরে সবার সঙ্গে পরিচয় হলো। পরে বুঝলাম, আমরা পাঁচজনই পাঁচটি ভিন্ন মহাদেশের বাসিন্দা!
একটি ছোট লবিতে বসে পৃথিবীর পাঁচ মহাদেশের পাঁচজন মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক আড্ডা—বিষয়টি আমার কাছে ভীষণ মজার এবং একই সঙ্গে প্রতীকী মনে হয়েছিল। ভ্রমণ আসলে কীভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে এক জায়গায় এনে দিতে পারে, সেই মুহূর্তে বিষয়টি খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করেছিলাম।
ভ্রমণ থেকে আপনি সবচেয়ে বড় কী শিক্ষা পেয়েছেন?
আমার কাছে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো-পৃথিবীকে বুঝতে হলে নিজের পরিচিত গণ্ডির বাইরে যেতে হয়।
বই পড়ে আমরা অনেক কিছু জানতে পারি, কিন্তু কোনো দেশের মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি, সামাজিক আচরণ কিংবা দৈনন্দিন বাস্তবতা সরাসরি সেখানে গিয়ে দেখার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা।
ভ্রমণ আমাকে আরও ধৈর্যশীল, পর্যবেক্ষণশীল ও বাস্তববাদী হতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে বুঝেছি, পৃথিবীর মানুষ আলাদা ভাষায় কথা বললেও তাদের অনেক স্বপ্ন, আশা ও অনুভূতির মধ্যে আশ্চর্যজনক মিল রয়েছে।
বিদেশ ভ্রমণে খাবারের বিষয়টি কীভাবে সামলান?
আমি হালাল খাবারকে অগ্রাধিকার দিই। কোনো দেশে যাওয়ার আগে সেখানে হালাল খাবারের ব্যবস্থা কোথায় পাওয়া যায়, সেটি সম্পর্কে কিছুটা গবেষণা করে নিই।
তবে সুযোগ পেলে স্থানীয় খাবারও চেষ্টা করি, অবশ্যই আমার খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় বিষয়গুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।
বিদেশে নিজের পছন্দের খাবার না পাওয়া কখনো কখনো চ্যালেঞ্জ হয়, কিন্তু সেটিও ভ্রমণের অভিজ্ঞতার একটি অংশ।
একজন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীর জন্য উন্নত দেশের ভিসা পাওয়া কি কঠিন?
অবশ্যই তুলনামূলকভাবে কঠিন। কারণ বাংলাদেশ থেকে কিছু মানুষ উন্নত দেশের ভিসা নিয়ে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরে আসেন না, আবার কেউ কেউ সংশ্লিষ্ট দেশের আইন-কানুন ও ভিসার শর্ত মেনে চলেন না। এ ধরনের ঘটনাগুলো ভবিষ্যতে প্রকৃত ভ্রমণকারীদের যাচাই-বাছাইকে কঠোর করে তুলতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য উন্নত দেশের ভিসা পাওয়া অসম্ভব। আমার অভিজ্ঞতায়, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, সঠিক তথ্য, স্বচ্ছ ভ্রমণ ইতিহাস, নিজের আর্থিক ও পেশাগত অবস্থার যথাযথ প্রমাণ এবং ভিসার শর্ত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে ভিসা পাওয়া সম্ভব।
আমি মনে করি, একজন প্রকৃত ভ্রমণকারীর সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তার বিশ্বাসযোগ্য ভ্রমণ-ইতিহাস এবং দায়িত্বশীল আচরণ।
কম খরচে বিদেশ ভ্রমণ করতে চাইলে একজন নতুন ভ্রমণকারীকে কী পরামর্শ দেবেন?
প্রথমত, ভ্রমণের আগে ভালোভাবে গবেষণা করতে হবে। শুধু বিমানভাড়া কম পেলেই হবে না-থাকা, খাবার, স্থানীয় পরিবহন, ভিসা এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মোট বাজেট করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা ও কেনাকাটা এড়িয়ে চলতে হবে। তৃতীয়ত, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করা এবং উপযুক্ত বাজেটের আবাসন নির্বাচন করা যেতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো-কম খরচে ভ্রমণ করার মূল কৌশল হলো ভালো পরিকল্পনা।
একা ভ্রমণ সম্পর্কে আপনার অভিজ্ঞতা কী?
একা ভ্রমণ মানুষকে অনেক বেশি আত্মনির্ভরশীল করে। নিজের সময়, অর্থ, নিরাপত্তা এবং সিদ্ধান্ত—সবকিছু নিজেকেই সামলাতে হয়।
একই সঙ্গে একা ভ্রমণ করলে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও অনেক সময় বেশি হয়। তবে একা ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগে থেকে পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
আপনার মতে একজন বাংলাদেশি পর্যটকের বিদেশে আচরণ কেমন হওয়া উচিত?
আমরা যখন বিদেশে যাই, তখন শুধু নিজের পরিচয় বহন করি না; অনেক সময় আমাদের আচরণের মাধ্যমে বাংলাদেশেরও একটি ধারণা তৈরি হয়।
তাই স্থানীয় আইন-কানুন মেনে চলা, মানুষের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো, পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে না জড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একজন ভালো ভ্রমণকারী শুধু ভালো ছবি নিয়ে দেশে ফেরেন না; তিনি নিজের দেশের জন্যও একটি ভালো পরিচয় রেখে আসেন।
৩১টি দেশ ও শতাধিক ভ্রমণের পরও কি নতুন জায়গা দেখার আগ্রহ আছে?
অবশ্যই। সত্যি বলতে, যত বেশি ভ্রমণ করি, তত বেশি মনে হয় পৃথিবী সম্পর্কে আমার জানার এখনও অনেক কিছু বাকি।
আমার কাছে দেশের সংখ্যা কোনো চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। নতুন দেশ, নতুন মানুষ, নতুন সংস্কৃতি ও নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের আগ্রহটাই বড়। সুযোগ ও সামর্থ্য থাকলে ভবিষ্যতেও পৃথিবীর আরও অনেক জায়গা দেখতে চাই। এছাড়া পবিত্র কুরআনে পৃথিবী ভ্রমণ করার বিষয়ে একাধিক আয়াত আছে।
ভবিষ্যতে আপনার ভ্রমণের লক্ষ্য কী?
নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যাকে লক্ষ্য হিসেবে ধরিনি। তবে পৃথিবীর যেসব দেশ এখনও দেখা হয়নি, সেগুলোর মধ্যে সুযোগ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন নতুন গন্তব্য বেছে নিতে চাই।
আমি চাই, প্রতিটি ভ্রমণ শুধু একটি নতুন দেশের নাম আমার তালিকায় যোগ না করুক; বরং নতুন একটি অভিজ্ঞতা, নতুন একটি শিক্ষা এবং নতুন কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয় এনে দিক।
আপনার কাছে ভ্রমণের প্রকৃত সার্থকতা কোথায়?
আমার কাছে ভ্রমণের সার্থকতা দেশের সংখ্যা গোনার মধ্যে নয়; বরং ভ্রমণের মাধ্যমে নিজেকে কতটা সমৃদ্ধ করতে পারলাম, সেটিতে। ৩১টি দেশ ভ্রমণ করেছি, অনেক দেশেই একাধিকবার গিয়েছি, শতাধিকবার আন্তর্জাতিক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হয়েছে-এসব অবশ্যই আনন্দের বিষয়। কিন্তু এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, পৃথিবীকে একটু কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি।
ভ্রমণ আমাকে শিখিয়েছে, আমাদের পৃথিবী অনেক বড়, মানুষের জীবনযাপন অনেক বৈচিত্র্যময় এবং জানার মতো বিষয় অসংখ্য।
আমার কাছে তাই ভ্রমণ কোনো গন্তব্যে পৌঁছানোর গল্প নয়; ভ্রমণ হলো নিজেকে প্রতিনিয়ত নতুন করে আবিষ্কারের একটি যাত্রা।

মোহাম্মদ তাফহীমুর রহমান। tafhimur.83@gmail.com
