হাবিপ্রবি থেকে ডালিম চন্দ্র রায়
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
বুধবার ১৬, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --
হাবিপ্রবির অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফাহিমা খানমের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফাহিমা খানমের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং একক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিভাগ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। বিভাগের শিক্ষাসফর কমিটি গঠন, অর্থ ব্যয় ও স্নাতকোত্তর (উচ্চতর) পর্যায়ের থিসিস গ্রহণে অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. টি. এম. রেজাউল হক।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দাখিলকৃত ওই লিখিত অভিযোগে ড. রেজাউল হক উল্লেখ করেন, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান বিভাগীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম বা নীতিমালার তোয়াক্কা না করে একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিভাগীয় ট্যুর কমিটি গঠন কিংবা কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই চেয়ারম্যান নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষককে সফর পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করছেন। এই প্রক্রিয়ায় কোনো সিনিয়র নীতি অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি যেসব শিক্ষকের চাকরি এখনো স্থায়ী হয়নি, তাঁদের অবৈধভাবে ট্যুর পরিচালনার দায়িত্বে পাঠানো হচ্ছে।
এছাড়া সফর সংক্রান্ত অগ্রিম অর্থের অপব্যবহার ও ইচ্ছামাফিক ব্যয়ের অভিযোগ তুলে পত্রে উল্লেখ করা হয়। ট্যুরের অগ্রিম টাকা তোলার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত শিক্ষকদের ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এতে অন্যান্য শিক্ষকদের কোনো মতামত নেওয়া হচ্ছে না। গত বছরের একটি শিক্ষাসফরের উদাহরণ দিয়ে ড. রেজাউল হক জানান, তাঁর নাম ব্যবহার করে অন্য শিক্ষকের মাধ্যমে টাকা তোলার অনুরোধ করেছিলেন চেয়ারম্যান, যা নিয়ে বিভাগে অসন্তোষ তৈরি হয়।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনুচ্ছেদে মাস্টার্স পর্যায়ে থিসিস নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সিজিপিএ (CGPA)-র বাধ্যতামূলক শর্ত না থাকলেও চেয়ারম্যান ইচ্ছামাফিক একেক বছর একেক ধরনের শর্ত আরোপ করে থাকেন।
সামগ্রিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ রক্ষা ও চেয়ারম্যানের প্রশাসনিক কার্যক্রম সংশোধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফাহিমা খানমের মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "বিভাগে ট্যুরসহ যাবতীয় কার্যক্রম নিয়মতান্ত্রিকভাবেই হয়েছে। অভিযোগকারী শিক্ষক ট্যুর সম্পর্কিত মিটিংয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। গতবার যারা ট্যুরে যায়নি তাদের এবার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। সেইসাথে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এক শিক্ষক কি দুইবার ট্যুরে যেতে পারে? গতবছর অভিযোগকারী শিক্ষক দুই বিভাগের সাথে ট্যুরে গিয়েছিল।"