মোঃ শোয়েব বিন জামান। রুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
বুধবার ১৬, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --
সংগৃহীত
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বীমা বাতিল এবং বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষে তা নবায়ন না করার দাবিতে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসহ ছাত্রকল্যাণ দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রদান করা স্মারকে চারটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলো হলো—বর্তমান বাধ্যতামূলক বীমা ব্যবস্থা বাতিল করা, বর্তমান বীমা চুক্তির মেয়াদ শেষে তা আর নবায়ন না করা, শিক্ষার্থীর স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া ভবিষ্যতে কোনো বেসরকারি বীমা বা বাণিজ্যিক সেবার সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত না করা এবং বীমার প্রিমিয়াম পরিশোধকে কোনো একাডেমিক সনদ, প্রশংসাপত্র বা ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার শর্ত না করা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বীমা নিয়ে রুয়েটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চললেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী জানতেন না যে তাঁরা ইতোমধ্যে একটি বীমার আওতাভুক্ত হয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি শ্রেণি প্রতিনিধিদের (সিআর) সঙ্গে আলোচনা করা হলেও কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা তথ্যপ্রবাহের ঘাটতির কারণে বিষয়টি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছায়নি। ফলে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট সম্মতিও নেওয়া হয়নি বলে তাঁরা জানান।
সম্প্রতি বীমার টাকা পরিশোধের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে ফি চাওয়া হলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বিষয়টির বাধ্য-বাধকতা সম্পর্কে জানতে পারেন। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীদের মতামত জানার জন্য ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক (ডিএসডব্লিউ) গণস্বাক্ষর সংগ্রহের পরামর্শ দেন বলে শিক্ষার্থীরা জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে চারটি দাবির ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, এসব দাবির পক্ষে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, যেসব শিক্ষার্থীর কাছে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য যাওয়া হয়েছে, তাঁদের প্রায় সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে স্বাক্ষর করেছেন। এতে বীমা ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকা আপত্তি ও অসন্তোষের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থানও শিক্ষার্থীরা তুলে ধরেছেন। তাঁদের জানানো হয়েছে, মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এ চুক্তির আওতায় প্রায় ৮৮ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। চুক্তি কার্যকর হয়ে যাওয়ায় চলতি বছরে এটি বাতিল করা সম্ভব নয়। তবে আগামী বছর থেকে শিক্ষার্থীরা যে সিদ্ধান্ত চাইবেন, তা বিবেচনা করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা জানান।
এদিকে বীমা ব্যবস্থার শরিয়াহসম্মততা নিয়েও মুসলিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বীমাকে ইসলামিক বলা হলেও এর প্রকৃত কাঠামো ও বৈধতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে তাঁরা জানান। এ বিষয়ে বিভিন্ন আলেমের মতামতও সামনে এসেছে। ফলে বীমার ধর্মীয় বৈধতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন ও উদ্বেগকেও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ জোহান বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়ে, চলতি বছরে বীমা চুক্তি কার্যকর হওয়ায় এটি বাতিল সম্ভব নয়। তবে আগামী বছর থেকে শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। আমরা চাই, ভবিষ্যতে কোনো বেসরকারি বীমা বা বাণিজ্যিক সেবার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করা না হোক। পাশাপাশি বীমাটিকে ইসলামিক বলা হলেও এর শরিয়াহ সম্মত কাঠামো ও বৈধতা নিয়েও শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে শিক্ষার্থীদের মতামত ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।”
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, রুয়েট প্রশাসন তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতে কোনো বেসরকারি সেবা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁদের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া যুক্ত করবে না। একই সঙ্গে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষে শিক্ষার্থীদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং ছাত্রকল্যাণের স্বার্থে তাঁদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।