বুধবার ১৬, সেপ্টেম্বর ২০২৬

বুধবার ১৬, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৭ জন পেলেন ভিসি অ্যাওয়ার্ড,৪,৯২১ জন শিক্ষাবৃত্তি

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে সেরা ফলাফল অর্জনকারী ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিতসহ ৪ হাজার ৯২১ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।

অনুষ্ঠানে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সেরা ফলাফল অর্জনকারী ৩৭টি কলেজের ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। প্রত্যেককে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট এবং ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য নির্বাচিত ১ হাজার ৫২৫টি কলেজের মোট ৪ হাজার ৯২১ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও শহিদ পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি ও সুবিধাবঞ্চিতদের সহায়তা একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নে মনিটরিং জোরদার, দক্ষতাভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়ন এবং পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার, অনলাইন ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়া যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব, তেমনি আর্থিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোও বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি জানান, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, দক্ষতাভিত্তিক ও বাজারমুখী কোর্স চালু এবং ২০২৭ সালের মধ্যে কারিকুলাম সংস্কার সম্পন্ন করার লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক দক্ষতা অর্জনের জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি ১৫০টি প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কার কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

Link copied!