শনিবার ২৯, আগস্ট ২০২৬

শনিবার ২৯, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

রুয়েটের জমি পুনরুদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে মানববন্ধন

মোঃ শোয়েব বিন জামান। রুয়েট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) মালিকানাধীন জমি পুনরুদ্ধার, সীমানা সুরক্ষা এবং অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে র‌্যালি বের হয়ে তালাইমারি এলাকায় গিয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগ ও শিক্ষাবর্ষের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

‘রুয়েটের জমি রক্ষা করুন, সীমানা সুরক্ষিত করুন; অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করুন’ শীর্ষক এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা দুটি দাবি জানান। রুয়েটের জমিতে নির্মিত পাবলিক টয়লেটসহ সব অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদ এবং প্রধান ফটক ও সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ভ্রাম্যমাণ দোকানসহ অন্যান্য স্থাপনা অপসারণের দাবি জানান তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তালাইমারি এলাকায় রুয়েটের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থাপনাটি থাকলেও জমি পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে এর পাশেই পুরকৌশল অনুষদের ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। ফলে স্থাপনাটি শিক্ষা পরিবেশ, নিরাপত্তা, চলাচল ও ক্যাম্পাসের নান্দনিকতার জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে শিক্ষার্থীদের দাবি।

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিরাত শাফিন তুর্য্য বলেন, “রুয়েটের সীমানার ভেতরে কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকতে পারে না। পাবলিক টয়লেট প্রয়োজন হলে সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে উপযুক্ত স্থানে নির্মাণ করতে হবে। সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে থাকা দোকান ও অন্যান্য স্থাপনাও শিক্ষার্থীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে।”

তিনি বলেন, “মেইন রোডে ভারী যানবাহন চলাচল করে। ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের সড়ক দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এসব স্থাপনা সরিয়ে নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”

মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে পাবলিক টয়লেট, দোকানপাটসহ সব অননুমোদিত স্থাপনা দ্রুত অপসারণের দাবি জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তাঁরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, রুয়েটের জমি জাতীয় সম্পদ। এ জমি অবৈধ দখল ও ব্যবহারের হাত থেকে রক্ষায় স্থায়ী নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে এসব স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তাঁরা।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হলে গত ২২ আগস্ট ছয় দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা। এতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সীমানাপ্রাচীর ভেঙে জমি দখল বা অবৈধ ব্যবহারের স্থান চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় স্থানে সীমানাপ্রাচীর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানানো হয়।

Link copied!