গণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মারুফ হাসান
প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
শনিবার ২৯, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
নতুনদের চোখে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুরুর উচ্ছ্বাস, আর বিদায়ীদের মনে দীর্ঘদিনের পরিচিত ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার আবেগ-দুই বিপরীত অনুভূতি যেন একসঙ্গে মিলেছিল এক আয়োজনে। নীল-সাদা বেলুনে সাজানো মঞ্চ, সারি সারি সম্মাননা স্মারক আর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ হয়ে উঠেছিল নতুনকে বরণ ও পুরোনোকে বিদায় জানানোর মিলনমেলা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মিলনায়তনে বিভাগের ২৩তম অনার্স ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদেত এবং ১৪তম অনার্স ও ৩য় মাস্টার্স ব্যাচের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সূচনা হয় অনুষ্ঠানের।
বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মাহবুবা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বায়োফার্মা লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অব এইচআরডি ড. মো. গোলাম মাওলা শিমুল এবং দ্য একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ রঙ্গিন।
নবীনদের জন্য দিনটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা। অন্যদিকে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের কাছে একই আয়োজন হয়ে ওঠে ক্যাম্পাসে কাটানো সময়, শিক্ষক-সহপাঠী ও পরিচিত পরিবেশকে স্মরণ করার মুহূর্ত। একজনের সামনে যখন নতুন পথচলার প্রস্তুতি, অন্যজন তখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিয়ে পেশাগত কিংবা উচ্চশিক্ষার নতুন যাত্রায় পা রাখার অপেক্ষায়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, বিভাগের এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নিলে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া, অগ্রগতি এবং অপ্রাপ্তির কারণগুলো জানার সুযোগ তৈরি হয়। বায়োকেমিস্ট্রিকে জীববিজ্ঞানভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় একটি বিষয় উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রতিটি বছর কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
উপাচার্য বলেন, “বায়োকেমিস্ট্রি জীববিজ্ঞানভিত্তিক ক্ষেত্রের একটি বিষয়। এর সুদূরপ্রসারী ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ রয়েছে। তাই আগামী চার বছর কাজে লাগাতে হবে সুন্দরভাবে পড়াশোনা করে, শিক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া জ্ঞান আহরণ করে এবং তা পরবর্তী জীবনে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।”
বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজির ভবিষ্যৎ ও এর বিস্তৃত ব্যবহারিক প্রয়োগের কথা তুলে ধরে ড. মো. গোলাম মাওলা শিমুল বলেন, বিষয়ভিত্তিক চাকরির সুযোগ পর্যাপ্ত না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে বেকারত্ব বাড়ছে এবং পড়াশোনার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রির শিক্ষার্থীরা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যাচ্ছে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এর আগেও মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি তিনি লক্ষ্য করেছেন। একজন বায়োকেমিস্ট রোগ নির্ণয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকেন এবং সেই রোগ নির্ণয়ের ওপর নির্ভর করেই পরবর্তী চিকিৎসা পরিচালিত হয়। তাই এই ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি নির্ভুলভাবে কাজ করার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।
বর্তমান বিশ্বে জীববিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি ও শিল্পক্ষেত্রে দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে মোহাম্মদ রঙ্গিন শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বায়োকেমিস্টদের সবসময় প্রযুক্তিগত কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে হয়। তাই নিজেকে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ক্যাম্পাস ও খাতাকলমে যা শিখবেন, এর থেকে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ আপনাদের নিতে হবে। জীববিজ্ঞান ও জীবপ্রযুক্তি যেভাবে পরিবর্তন হচ্ছে, সামনে বায়োকেমিস্ট্রি অবশ্যই আপনাদের জীবনে মূল্য সংযোজন করবে। চাকরির ক্ষেত্র থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষায়ও বায়োকেমিস্টদের জন্য বিশাল সুযোগ রয়েছে।”
নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ঘিরে পুরো আয়োজনটি ছিল একই সঙ্গে আনন্দ ও আবেগের। নবীনদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং শিক্ষক-সিনিয়রদের কাছ থেকে ভবিষ্যৎ পথচলার দিকনির্দেশনা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিদায়িরা ফিরে দেখেন নিজেদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের নানা স্মৃতি, অর্জন ও অভিজ্ঞতা।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় প্রধান ড. মাহবুবা খাতুন নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞানকে কেবল সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গবেষণা, উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত জীবনে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, ছাত্রসংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের বর্তমান ও বিদায়ী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
নবীনবরন ও বিদায়ি সংবর্ধনা শেষে অনুষ্ঠিত হয় বর্নাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান৷ এতে অংশগ্রহন করেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।