মঙ্গলবার ২৫, আগস্ট ২০২৬

মঙ্গলবার ২৫, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

রুয়েটের শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি দেবে বিএসআরএম

মোঃ শোয়েব বিন জামান। রুয়েট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

রুয়েট প্রশাসন ও বিএসআরএম ফাউন্ডেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ আরও সহজ করতে মেধাবৃত্তি চালু করছে বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড (বিএসআরএম) ফাউন্ডেশন। এ লক্ষ্যে রুয়েট প্রশাসন ও বিএসআরএম ফাউন্ডেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

‘বিএসআরএম-রুয়েট ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার স্কলারশিপ’ কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর রুয়েটের প্রথম বর্ষের স্নাতক পর্যায়ের ১০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে। প্রত্যেকে বছরে ৬০ হাজার টাকা করে পাবেন। সে হিসাবে প্রতিবছর মোট ৬ লাখ টাকার বৃত্তি দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য এ কর্মসূচি চালু থাকবে।

নির্বাচিত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বৃত্তির ৩০ হাজার টাকা বছরে আবাসিক হলের ডাইনিং ব্যয় বাবদ সংশ্লিষ্ট হলের ডাইনিং তহবিলে দেওয়া হবে। এ ছাড়া শিক্ষাবিষয়ক অন্যান্য ব্যয় মেটাতে প্রতি তিন মাসে শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবে ৩ হাজার টাকা করে মোট ১২ হাজার টাকা দেওয়া হবে। অবশিষ্ট ১৮ হাজার টাকা একাডেমিক নিবন্ধন ফি ও হল-সংক্রান্ত ব্যয় মেটাতে রুয়েট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রদান করা হবে।

বৃত্তির মূল উদ্দেশ্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়া এবং তাঁদের প্রাথমিক পর্যায়ের আর্থিক চাপ কমানো। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি উদ্ভাবনী চিন্তা, গঠনমূলক কর্মকাণ্ড ও পেশাগত দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবেন বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

বৃত্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচনে রুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলকে প্রধান বিবেচনা করা হবে। দুই বা ততোধিক শিক্ষার্থীর ফল সমান হলে কম পারিবারিক আয়ের শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পারিবারিক আয়ও সমান হলে নারী শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরপরও সমতা থাকলে লটারির মাধ্যমে চূড়ান্ত নির্বাচন করা হবে। তবে সরকারি বৃত্তি বা অন্য কোনো উৎস থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়া শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য বিবেচিত হবেন না।

বৃত্তি পাওয়ার পর তা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত রাখা হয়েছে। প্রতি কিস্তি পাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে বিভাগীয় প্রধানের অনুমোদিত অগ্রগতি প্রতিবেদন বৃত্তি বাছাই কমিটির কাছে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া প্রথম বর্ষের প্রথম পর্বের পরীক্ষায় সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী কোনো বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হলে পরবর্তী পর্বের বৃত্তির যোগ্যতা হারাবেন।

এ ছাড়া কোনো বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত বা শৃঙ্খলাজনিত মামলা হলে বৃত্তি বাতিল করা হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বাতিল বা প্রত্যাহার করলে ইতিমধ্যে পাওয়া বৃত্তির অর্থ ফেরত দেওয়ার শর্তও রয়েছে।

সমঝোতা স্মারকের প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর। উভয় পক্ষের লিখিত সম্মতিতে পরবর্তীতে এর মেয়াদ বাড়ানো যাবে। বিএসআরএম ফাউন্ডেশনের আর্থিক বরাদ্দ ও কর্মসূচির ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বৃত্তির সংখ্যা পুনর্বিবেচনার সুযোগও রাখা হয়েছে।

রুয়েট প্রশাসন মনে করছে, বিএসআরএম ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি তাঁদের একাডেমিক উৎকর্ষ, দায়িত্বশীলতা, পেশাগত মূল্যবোধ ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ প্রকৌশলী তৈরিতে এ ধরনের বৃত্তি ইতিবাচক অবদান রাখবে।

Link copied!